ট্রেনের টিকিট নেই? চিন্তা নয়, কম খরচে আড়াই দিনের রোড ট্রিপে ঘুরে আসুন পুরীর রথযাত্রা ২০২৬

পুরীর রথযাত্রা ২০২৬-এ ট্রেনের টিকিট পাননি? জেনে নিন কলকাতা থেকে কম খরচে আড়াই দিনের রোড ট্রিপের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা, ভুবনেশ্বরে থাকার ব্যবস্থা, রুট, পার্কিং ও আনুমানিক খরচ।

রথযাত্রার সময় পুরী যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় অনেকেই পরিকল্পনা বাতিল করে দেন। তার উপর হোটেলের চরম সংকট সফরকে আরও কঠিন করে তোলে। তবে সামান্য পরিকল্পনা করলেই এই সমস্যার সহজ সমাধান রয়েছে। নিজের গাড়ি বা ভাড়ার ক্যাব নিয়ে সড়কপথে পুরী পৌঁছে রথযাত্রা দর্শনের পাশাপাশি ভুবনেশ্বরও ঘুরে আসা সম্ভব মাত্র আড়াই থেকে তিন দিনের মধ্যেই।

ট্রেনের টিকিট নেই? চিন্তা নয়, কম খরচে আড়াই দিনের রোড ট্রিপে ঘুরে আসুন পুরীর রথযাত্রা ২০২৬
ট্রেনের টিকিট ছাড়াই রওনা, রোড ট্রিপই হতে পারে সেরা বিকল্প

রথযাত্রার সময় ট্রেনে সংরক্ষিত আসন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই শেষ মুহূর্তের ভ্রমণ পরিকল্পনায় সড়কপথই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প। নিজের সময় অনুযায়ী যাত্রা শুরু করা যায়, মাঝপথে প্রয়োজনমতো বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরিবারের শিশু বা প্রবীণ সদস্যদের নিয়েও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করা সম্ভব।যাঁরা তুলনামূলক কম ভিড় চান, তাঁদের জন্য উল্টো রথের সময় সফরের পরিকল্পনা আরও সুবিধাজনক হতে পারে। এতে পরদিন বিখ্যাত সোনাবেশ দর্শনের সুযোগও মিলতে পারে।

কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর পৌঁছনোর পরিকল্পনা

রথের আগের দিন ভোরে কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করলে দিনের মধ্যেই ভুবনেশ্বর পৌঁছে যাওয়া যায়। পথে খড়গপুর ও বালেশ্বর অতিক্রম করে ওড়িশার ভদ্রকে দুপুরের খাবারের জন্য বিরতি নেওয়া যেতে পারে।রথের সময় পুরীতে হোটেল পাওয়া কঠিন হওয়ায় ভুবনেশ্বরে রাত কাটানোই বুদ্ধিমানের কাজ। স্টেশন রোড, রসুলগড় বা জয়দেব বিহার এলাকায় তুলনামূলক সহজেই হোটেল ও গেস্ট হাউস পাওয়া যায়।

ট্রেনের টিকিট নেই? চিন্তা নয়, কম খরচে আড়াই দিনের রোড ট্রিপে ঘুরে আসুন পুরীর রথযাত্রা ২০২৬
ভোরে পুরী, তারপর রথযাত্রার আনন্দ

ভোরবেলা জাতীয় সড়ক ৩১৬ ধরে ভুবনেশ্বর থেকে পুরীর উদ্দেশে রওনা দিলে প্রায় দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

পুরীতে প্রবেশের আগে মালতিপাটপুর বা তালবানিয়া পার্কিং লটে গাড়ি রেখে সরকারি বাস বা টোটোয় বড়দণ্ডে পৌঁছনো সুবিধাজনক। রথযাত্রা নিরাপদে দেখার জন্য বড়দণ্ডের ধারে কোনও হোটেলের বারান্দা বা ছাদ আগে থেকেই বুক করে রাখা যেতে পারে।এদিন সঙ্গে পর্যাপ্ত পানীয় জল, শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা জরুরি। দুপুরের খাবারের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের অন্নসত্রও ভরসা হতে পারে।

বিকেলেই ফিরুন ভুবনেশ্বরে

রথ টানার সময় দুপুরের পর থেকে ভিড় দ্রুত বাড়তে থাকে। তাই বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে পার্কিং এলাকায় ফিরে যাওয়াই নিরাপদ। এরপর ভুবনেশ্বরের হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নিলে পরদিনের সফরও আরামদায়ক হবে।

ভুবনেশ্বর দর্শন, তারপর বাড়ির পথে

শেষ দিন সকালে ভুবনেশ্বরের উল্লেখযোগ্য মন্দির ও দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখে বিকেলে কলকাতা বা মেদিনীপুরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া যেতে পারে। ফেরার পথে বালেশ্বর বা অন্য কোনও শহরে রাতের খাবার সেরে মাঝরাতের মধ্যে বাড়ি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

ট্রেনের টিকিট নেই? চিন্তা নয়, কম খরচে আড়াই দিনের রোড ট্রিপে ঘুরে আসুন পুরীর রথযাত্রা ২০২৬
আনুমানিক খরচ কত হতে পারে?

চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে পুরো সফরের আনুমানিক খরচ ১২ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। এর মধ্যে জ্বালানি, টোল, হোটেল, খাবার এবং স্থানীয় যাতায়াতের ব্যয় ধরা হয়েছে। একাধিক পরিবার একসঙ্গে গেলে খরচ আরও কমে যেতে পারে।

সফরের আগে মনে রাখুন এই বিষয়গুলি

খুব ভোরে যাত্রা শুরু করুন।

ভুবনেশ্বরের হোটেল আগে থেকেই বুক করার চেষ্টা করুন।

নির্দিষ্ট পার্কিংয়েই গাড়ি রাখুন।

পর্যাপ্ত জল, শুকনো খাবার ও ওষুধ সঙ্গে রাখুন।

শিশু ও প্রবীণদের নিয়ে গেলে ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ না থাকাই ভালো।

ট্রেনের টিকিট নেই? চিন্তা নয়, কম খরচে আড়াই দিনের রোড ট্রিপে ঘুরে আসুন পুরীর রথযাত্রা ২০২৬
রথযাত্রার সময় পুরী যাওয়ার ট্রেনের টিকিট না পেলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিজের গাড়ি বা ভাড়ার চারচাকা নিয়ে সড়কপথে সহজেই আড়াই থেকে তিন দিনের মধ্যে পুরী ও ভুবনেশ্বর ঘুরে আসা সম্ভব। কোথায় থাকবেন, কোন পথে যাবেন, কোথায় গাড়ি রাখবেন এবং কত খরচ হতে পারে—রইল সম্পূর্ণ পরিকল্পনা।

Leave a comment