পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর অন্যতম বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা যোজনা। অবশেষে সেই প্রকল্পের অনলাইন পোর্টাল চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, নতুন প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্তির কাজ সম্পূর্ণ হলে পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প আর চালু থাকবে না। একইভাবে স্বাস্থ্যসাথীর পরিবর্তে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে কার্যকর করারও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্পপত্রে রাজ্যের মহিলাদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বুধবার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মহিলা সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা
অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, বর্তমানে চালু থাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী হবে। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যতদিন পর্যন্ত নতুন প্রকল্পে আবেদন, যাচাই এবং অন্তর্ভুক্তিকরণের কাজ চলবে, ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তবে অন্নপূর্ণা যোজনার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলেই পুরনো প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসাথীর বদলে আয়ুষ্মান ভারত
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে শুরু হলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য ধাপে ধাপে স্থানান্তর করা হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পও বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রথম মন্ত্রিসভার বক্তব্যের সঙ্গে নতুন ঘোষণার পার্থক্য
সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলি অব্যাহত থাকবে। তখন তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোনও সামাজিক প্রকল্প হঠাৎ করে বন্ধ করা হবে না। কিন্তু বুধবারের বক্তব্যে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে পুরনো প্রকল্পগুলি আপাতত চললেও নতুন প্রকল্প পুরোপুরি কার্যকর হলে সেগুলির প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটির (Direct Benefit Transfer) মাধ্যমে পাঠানো হবে। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য কোনও ব্যক্তি যাতে সরকারি সুবিধা না পান, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভুয়ো সুবিধাভোগীদের সংখ্যা কমবে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু জল্পনা
অন্নপূর্ণা যোজনা চালু এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের সম্ভাবনার খবরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু সুবিধাভোগী জানতে চাইছেন, নতুন প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে কী কী নথি লাগবে এবং কবে থেকে সরাসরি টাকা পাওয়া শুরু হবে। সরকারের তরফে শীঘ্রই এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যে নতুন করে শুরু হল মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনা। মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে চালু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত চালু হলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাও ধাপে ধাপে বন্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার।











