জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদে উত্তরবঙ্গের জনজীবন যখন কার্যত অতিষ্ঠ, তখন বনদফতরের নজরে রয়েছে জঙ্গলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোদ্ধা কুনকি হাতিরাও। পর্যটন, বন পাহারা এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত এই বিশাল প্রাণীগুলিকে গরমের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে গরুমারা জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। খাদ্যাভ্যাস থেকে দৈনন্দিন রুটিন— সব ক্ষেত্রেই আনা হয়েছে পরিবর্তন।
কুনকি হাতিদের জন্য বিশেষ গ্রীষ্মকালীন পরিকল্পনা
গরুমারা জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে ২৬টি কুনকি হাতি এবং একটি শাবক রয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে তাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে বনদফতর বিশেষ পরিচর্যা কর্মসূচি চালু করেছে। আধিকারিকদের মতে, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে হাতিদের শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সেই কারণেই আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
খাদ্যতালিকায় তরমুজ, শসা ও লাউ
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হাতিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ মেনু। প্রতিদিনের খাবারে যুক্ত করা হয়েছে জলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি। তরমুজ, শসা, লাউ এবং পাকা কলার মতো খাবার নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ওআরএস এবং গ্লুকোজও সরবরাহ করা হচ্ছে।বনকর্মীদের মতে, এই খাদ্যতালিকা শুধু শরীর ঠান্ডা রাখতেই নয়, হাতিদের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতেও সাহায্য করছে।
দুপুরের রোদে বন্ধ ভারী কাজ
গরমের তীব্রতা বিবেচনা করে হাতিদের কাজের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে কোনও ধরনের ভারী কাজ করানো হচ্ছে না। জল বহন, বন পাহারা কিংবা অন্যান্য দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে সকাল এবং বিকেলের তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে।এর ফলে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন বনকর্তারা।
দিনে দু’বার স্নানের বিশেষ ব্যবস্থা
হাতিদের আরাম দিতে প্রতিদিন দু’বার নদী বা জলাশয়ে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে স্নান করানো হচ্ছে। হাতিরা স্বভাবতই জলপ্রিয় প্রাণী। তাই গরমের সময় নিয়মিত স্নান তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে।বনদফতরের দাবি, এই উদ্যোগে হাতিদের মধ্যে অস্বস্তি ও ক্লান্তির লক্ষণ অনেকটাই কমেছে।
শাবকের জন্য আলাদা নজরদারি
গরুমারার ছোট হাতিশাবকটির জন্য নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত সতর্কতা। পশুচিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার জন্য আলাদা খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শারীরিক পর্যবেক্ষণও চালানো হচ্ছে।শুধু শাবকই নয়, প্রতিটি হাতির শরীরের তাপমাত্রা, ওজন, শারীরিক অবস্থা এবং পায়ের স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্রামের পর জল, মানা হচ্ছে বিশেষ নিয়ম
বনদফতরের এক আধিকারিক জানান, প্রচণ্ড গরমে কাজ শেষ করেই হাতিদের জল দেওয়া হয় না। প্রথমে নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম করানো হয়, তারপর ধীরে ধীরে জল পান করানো হয়। এতে শরীরের উপর হঠাৎ চাপ পড়ে না এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম থাকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি হাতিদের হজমশক্তি এবং শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
উত্তরবঙ্গ জুড়ে যখন তীব্র দাবদাহে নাজেহাল মানুষ, তখন গরুমারা জাতীয় উদ্যানে কুনকি হাতিদের সুস্থ রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিল বনদফতর। ২৬টি কুনকি হাতি ও একটি শাবকের জন্য চালু হয়েছে ‘বিট দ্য হিট’ পরিকল্পনা। খাদ্যতালিকায় যোগ হয়েছে তরমুজ, শসা, লাউ, পাকা কলা, পাশাপাশি নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে ওআরএস, গ্লুকোজ ও পর্যাপ্ত জল।












