অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশনে ফোনে কী প্রশ্ন করা হচ্ছে? এই ভুল করলেই আটকে যেতে পারে মাসিক ৩,০০০ টাকা

অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন শুরু। ফোনে কী কী প্রশ্ন করা হচ্ছে, কোন নথি দেখাতে হবে, কারা সুবিধা পাবেন না এবং কোন ভুলে মাসিক ৩,০০০ টাকা আটকে যেতে পারে—জানুন বিস্তারিত।

অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই মাসিক ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে। তবে এখনও অনেক আবেদনকারীর আবেদন 'Under Enquiry' বা 'Application Rejected' অবস্থায় রয়েছে। সেই কারণেই প্রশাসন শুরু করেছে বিশেষ ভেরিফিকেশন অভিযান। বাড়িতে গিয়ে এবং ফোনের মাধ্যমে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করা হচ্ছে, শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তারাই যেন এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান।

অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন কেন করা হচ্ছে?

সরকারের দাবি, অনেক আবেদন প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অসম্পূর্ণ নথি বা কেওয়াইসি সমস্যার কারণে আটকে রয়েছে। তাই পুনরায় যাচাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ডিবিটি (DBT)-এর মাধ্যমে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সরকারি আধিকারিকরা এই কাজ করছেন।

ফোনে কী কী প্রশ্ন করা হচ্ছে?

যাঁদের বাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদের ফোন করে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সাধারণত নিচের প্রশ্নগুলি করা হচ্ছে—

আবেদনকারীর নাম

স্বামীর নাম

আধার নম্বর

ভোটার কার্ড নম্বর

মোবাইল নম্বর

পরিবারের প্রধানের পেশা

আবেদনকারীর বর্তমান পেশা

পরিবারের মাসিক আয়

পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি করেন কি না

কেউ নিয়মিত পেনশন পান কি না

আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন কি না

বাড়িতে গাড়ি রয়েছে কি না

বাড়িতে কতটি ঘর রয়েছে

এই সমস্ত উত্তর আবেদনপত্রে জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভেরিফিকেশনের সময় কোন কোন নথি প্রস্তুত রাখবেন?

সরকারি কর্মীরা প্রয়োজনে নিম্নলিখিত নথি দেখতে চাইতে পারেন—

আধার কার্ড

ভোটার পরিচয়পত্র

ব্যাঙ্কের পাসবই

আবেদনপত্রে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর

আবেদন সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি

নথিতে কোনও অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হতে পারে।

কোন ভুলে ৩,০০০ টাকার সুবিধা আটকে যেতে পারে?

ভেরিফিকেশনের সময় নিচের ভুলগুলি ধরা পড়লে আবেদন জটিলতায় পড়তে পারে—

আবেদনপত্রে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া

আধার, ভোটার ও ব্যাঙ্কের তথ্যের মধ্যে অমিল

কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না থাকা

মোবাইল নম্বর পরিবর্তন হলেও আপডেট না করা

পরিবারের আয় বা চাকরির তথ্য ভুলভাবে উল্লেখ করা

সরকারি চাকরি বা পেনশনের তথ্য গোপন করা

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?

প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধার জন্য অযোগ্য—

আয়করদাতা

সরকারি চাকরিজীবী

নিয়মিত পেনশনভোগী

এই বিষয়গুলিও ভেরিফিকেশনের সময় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আবেদন বাতিল দেখালেও আতঙ্কিত হবেন না

যাঁদের আবেদন বর্তমানে 'Rejected' বা 'Under Enquiry' দেখাচ্ছে কিন্তু এখনও সরকারি কর্মীরা যোগাযোগ করেননি, তাঁদের অযথা চিন্তা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, পুনরায় তথ্য যাচাইয়ের পর অনেক ক্ষেত্রেই আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস পরিবর্তিত হতে পারে।এছাড়া অফলাইনে জমা পড়া বহু আবেদন এখনও সরকারি পোর্টালে আপলোডের পর্যায়ে রয়েছে। তাই আবেদন করার পরেও টাকা না এলে কিছুটা সময় অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনকারীদের জন্য রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি ও ফোনের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন। আবেদনপত্রে থাকা তথ্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। নাম, আধার, ব্যাঙ্ক, পারিবারিক আয়, সরকারি চাকরি, পেনশন, এমনকি বাড়িতে গাড়ি বা কতটি ঘর রয়েছে—এসব সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হচ্ছে। তথ্যে অসঙ্গতি বা নথির ভুল থাকলে প্রকল্পের ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা পেতে দেরি হতে পারে বা আবেদন বাতিলও হতে পারে।

Leave a comment