দরভাঙা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল (DMCH)-এ অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কুকুর বা অন্য কোনও প্রাণীর কামড়ের পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা প্রায় ২২ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন পাননি। তাঁদের বাইরে থেকে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন কিনে আনতে বলা হয়েছে। রোগী ও পরিজনদের দাবি, বাইরে থেকে এক ডোজ ভ্যাকসিন কিনতে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে DMCH-এ আসা রোগীদের ওষুধ না থাকার বিষয়টি জানিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীদের পরিজনদের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার প্রত্যাশায় এলেও ভ্যাকসিন না পাওয়ায় তাঁদের বেসরকারি মেডিক্যাল স্টোরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। প্রাণীর কামড়ের পর সময়মতো ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি হওয়ায় পরিস্থিতি তাঁদের জন্য আরও সমস্যার সৃষ্টি করছে।
রোগীদের দাবি, বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কয়েকজন রোগী জানিয়েছেন, এক ডোজের জন্য প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একাধিক ডোজের প্রয়োজন হলে মোট খরচ আরও বাড়ছে। এর ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
DMCH উত্তর বিহারের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। দরভাঙা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ এলাকা থেকে মানুষ চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় তাঁদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা রোগীদের জন্য বাজারে গিয়ে ভ্যাকসিন কেনা, তা হাসপাতালে এনে প্রয়োগ করানো এবং প্রয়োজনে ফের হাসপাতালে আসার কারণে যাতায়াতের খরচ ও ভোগান্তি বাড়ছে।
রোগীদের মধ্যে দিহাড়ি শ্রমিক, ছোট কৃষক এবং সীমিত আয়ের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসার প্রত্যাশায় আসা এই পরিবারগুলির জন্য এক ডোজে প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হওয়া বড় আর্থিক বোঝা বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
রোগীদের বক্তব্য, হাসপাতালে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের স্টক না থাকলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে রোগীদের বাইরে ঘুরতে না হয়। রোগী ও তাঁদের পরিজনরা DMCH প্রশাসনের কাছে দ্রুত অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
ভ্যাকসিনের ঘাটতির কারণে রোগীদের কাছে প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাঁরা কখন এবং কোথা থেকে ডোজ পাবেন। অনেক রোগী দূরবর্তী এলাকা থেকে হাসপাতালে আসেন। তাঁদের জন্য প্রথমে হাসপাতালে এসে পরে বাজার থেকে ভ্যাকসিন কেনা এবং তা আবার হাসপাতালে নিয়ে এসে প্রয়োগ করানো অতিরিক্ত সমস্যার কারণ হচ্ছে। পুনরায় হাসপাতালে আসতে হলে যাতায়াতের খরচও বাড়ছে।
রোগীদের বক্তব্য, হাসপাতালে ভ্যাকসিন থাকলে বাইরে থেকে বেশি দামে তা কেনার প্রয়োজন হতো না। প্রতি ডোজে প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হওয়ায় একাধিক ডোজের ক্ষেত্রে চিকিৎসার মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে। রোগীদের মধ্যে অনেকেই প্রাণীর কামড়ের পর কতগুলি ডোজ প্রয়োজন হবে সে বিষয়ে আগে থেকে জানেন না। চিকিৎসক পরীক্ষা করার পর চিকিৎসার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেন।
রোগীদের পরিজনরা দাবি করেছেন, অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ দ্রুত পুনরায় চালু করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্টক শেষ হওয়ার আগেই নতুন চালানের ব্যবস্থা করা উচিত। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে আসার প্রধান উদ্দেশ্যই কম খরচে চিকিৎসা পাওয়া।
প্রায় ২২ জন রোগীকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে বলা হওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের মতে, ভ্যাকসিনের ঘাটতি কতদিন ধরে রয়েছে, নতুন চালান কবে হাসপাতালে পৌঁছবে এবং ততদিনে আসা রোগীদের জন্য কী বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা জানা প্রয়োজন।
অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রাণীর কামড়ের পর র্যাবিস প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। রোগীরা সাধারণত ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। হাসপাতালে ভ্যাকসিনের স্টক শেষ হয়ে গেলে তাঁদের প্রথমে বাজার থেকে তা কিনে আনতে হচ্ছে।
DMCH-এ প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত স্টক বজায় রাখা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। বর্তমানে রোগীদের বাইরে থেকে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন কিনে হাসপাতালে এনে প্রয়োগ করাতে হচ্ছে। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের বক্তব্য, নতুন স্টক দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছলে এই সমস্যা দূর হবে।










