রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে অনুব্রত মণ্ডলের মন্তব্য। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পিছনে রয়েছে ভুল কৌশল এবং আইপ্যাকের ‘মিসগাইড’। একইসঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন কেষ্ট
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর এতদিন প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি অনুব্রত মণ্ডল। অবশেষে তিনি জানালেন, জেল থেকে ফেরার পর আর সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেননি। তাঁর দাবি, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই তিনি ভোটের কাজে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। সেই কারণেই নির্বাচনী প্রচার বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁকে দেখা যায়নি।
আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুললেন অনুব্রত
নির্বাচনে দলের হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডল সবচেয়ে বেশি আক্রমণ শানিয়েছেন আইপ্যাকের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের অতীতের সাফল্যের সময় আইপ্যাকের কোনও ভূমিকা ছিল না। ১৯৯৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠা, ২০০৯ সালে শতাব্দী রায়ের জয়, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসা কিংবা পরবর্তী একাধিক নির্বাচনী সাফল্য—সবই হয়েছিল আইপ্যাক ছাড়াই। তাঁর অভিযোগ, ভুল পরামর্শ দিয়েই দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে এই নির্বাচনী কৌশল সংস্থা।
মমতার প্রতি ক্ষোভের ইঙ্গিত
শুধু আইপ্যাক নয়, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ঘিরে আক্ষেপের সুর শোনা গিয়েছে অনুব্রতের কথায়। তিনি বলেন, “কেউ যদি জেগে ঘুমায়, তাকে জাগানো যায় না।” পাশাপাশি “শেষদিকে আমার হাতে ঘি খেল না” কিংবা “কার পাল্লায় পড়ল জানি না”—এমন মন্তব্য করে তিনি নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের অসন্তোষের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য তৃণমূলের অন্দরমহলের অস্বস্তিকর বাস্তবকেই সামনে এনেছে।
দল ছাড়ছেন? জল্পনার জবাব দিলেন নিজেই
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক তৃণমূল নেতা দলবদল করায় অনুব্রত মণ্ডলকেও একই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অন্য দলে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। তবে একইসঙ্গে বলেন, “দলের কাছে সম্মান পেলে রাজনীতি করব, না হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।” এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পরাজয়ের পর তৃণমূলে বাড়ছে অস্বস্তি
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। তারপর থেকেই তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরে আত্মসমালোচনা ও দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়েছে। একের পর এক নেতার মুখে উঠে এসেছে সংগঠনের দুর্বলতা, ভুল কৌশল এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল অনুব্রত মণ্ডলের নামও, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের এক মাসেরও বেশি সময় পরে মুখ খুললেন দলের একসময়ের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল। ভোটে হারের জন্য তিনি সরাসরি আইপ্যাককে দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তবে আপাতত অন্য কোনও দলে যোগদানের পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন ‘কেষ্ট’।










