বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার যাত্রা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে বিতর্ক। রেফারিং, VAR-এর ব্যবহার, নকআউট ড্র এবং শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা। মিশরের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ের পর ‘ফিফা আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিচ্ছে’—এই অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে সেই বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
![]()
মিশর ম্যাচের পরই শুরু বিতর্ক
রাউন্ড অব ১৬-এ মিশরের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত এবং VAR-এর হস্তক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিশর শিবির। এমনকি বিশ্বকাপ ‘ফিক্সড’ বলেও অভিযোগ ওঠে।এই পরিস্থিতিতেই কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্কালোনি।
স্কালোনির বার্তা—‘সমালোচনাই আমাদের শক্তি’
আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, দলের বিরুদ্ধে কী বলা হচ্ছে, তা ফুটবলারদের কানে পৌঁছেছে। তবে সেই সমালোচনাকে নেতিবাচকভাবে না দেখে বরং অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করছেন তাঁরা।স্কালোনির কথায়, অনেকেই হয়তো চান না বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আবার ট্রফি জিতুক। কিন্তু এই ধরনের মন্তব্য আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের আরও ভালো পারফর্ম করার মানসিকতা তৈরি করছে।
![]()
‘১৯৮৬ সাল থেকেও একই অভিযোগ’
বিতর্ক নতুন নয় বলেও মনে করিয়ে দেন স্কালোনি। তাঁর দাবি, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সময়ও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।কোচের মতে, আর্জেন্টিনা এমন একটি দল, যাদের ঘিরে বড় টুর্নামেন্টে সবসময়ই নানা আলোচনা, সমালোচনা এবং বিতর্ক তৈরি হয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন না।
VAR নিয়ে কী বললেন কোচ?
মিশরের একটি গোল VAR-এর সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়ার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়। তবে স্কালোনির বক্তব্য, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তাঁর দাবি, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই VAR পরিচালনার যে নির্দেশিকা নির্ধারণ করা হয়েছে, ম্যাচে ঠিক সেই নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছে। তাই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই বলেই মত তাঁর।
![]()
পরিসংখ্যানও বাড়াচ্ছে বিতর্ক
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কিছু পরিসংখ্যান। দেখা যাচ্ছে, তুলনামূলক বেশি ফাউল করলেও মেসিদের দল অন্য অনেক দেশের তুলনায় কম হলুদ কার্ড দেখেছে।উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা গড়ে প্রায় ১৯.৭টি ফাউলের পর একটি হলুদ কার্ড পেয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের মতো দল প্রায় ৭.৭টি ফাউলের পরই একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছে। যদিও শুধুমাত্র এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে পক্ষপাতিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
![]()
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আর্জেন্টিনাকে ঘিরে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর ওঠা ‘বিশ্বকাপ ফিক্সড’ বিতর্কের জবাবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি দাবি করেছেন, সমালোচনাকে দল বাড়তি প্রেরণা হিসেবেই দেখছে।









