আত্মীয়দের কটাক্ষ উপেক্ষা করে ইতিহাস গড়লেন অসমের গীতিকা তালুকদার, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একমাত্র ভারতীয় মহিলা চিত্রসাংবাদিক

আত্মীয়দের কটাক্ষ ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একমাত্র ভারতীয় মহিলা চিত্রসাংবাদিক হিসেবে ইতিহাস গড়লেন অসমের গীতিকা তালুকদার। জানুন তাঁর অনুপ্রেরণামূলক সাফল্যের গল্প।

একসময় আত্মীয়-স্বজনের কটাক্ষ, সামাজিক বাধা এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে আজ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফটোসাংবাদিকতার অন্যতম পরিচিত মুখ গীতিকা তালুকদার। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে একমাত্র ভারতীয় মহিলা চিত্রসাংবাদিক হিসেবে তাঁর উপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় নারীশক্তিরও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আত্মীয়দের কটাক্ষ উপেক্ষা করে ইতিহাস গড়লেন অসমের গীতিকা তালুকদার, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একমাত্র ভারতীয় মহিলা চিত্রসাংবাদিক
অসম থেকে বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে

অরুণাচল প্রদেশে জন্ম হলেও বাবার চাকরির সূত্রে ভারতের বিভিন্ন শহরে বেড়ে ওঠেন গীতিকা তালুকদার। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকতা ও ফটোগ্রাফিকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে গ্লোবাল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে উচ্চশিক্ষাও গ্রহণ করেন।

টানা তৃতীয় পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপ কভার

রাশিয়া ২০১৮ এবং কাতার ২০২২-এর পর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ তাঁর টানা তৃতীয় পুরুষদের বিশ্বকাপ কভারেজ। এছাড়াও তিনি ২০১৯ সালের ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ধারাবাহিক উপস্থিতি তাঁকে ভারতের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রীড়া চিত্রসাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আত্মীয়দের কটাক্ষ উপেক্ষা করে ইতিহাস গড়লেন অসমের গীতিকা তালুকদার, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একমাত্র ভারতীয় মহিলা চিত্রসাংবাদিক
দুই দশকের অভিজ্ঞতায় আন্তর্জাতিক সাফল্য

প্রায় ২০ বছরের কর্মজীবনে গীতিকা তালুকদার টোকিও অলিম্পিক, প্যারিস অলিম্পিক, বিভিন্ন আইসিসি টুর্নামেন্ট, কমনওয়েলথ গেমসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কভার করেছেন। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে খেলার আবেগ, জয়-পরাজয়ের মুহূর্ত, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং খেলোয়াড়দের অনুভূতির বাস্তব ছবি।

নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম

এই সাফল্যের পথে গীতিকার যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। আত্মীয়দের অনেকেই তাঁর পরিবারের কাছে ক্রীড়া সাংবাদিকতার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি নারী হয়ে এই পেশায় কাজ করা নিয়েও নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে নিজের লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তও সরে যাননি তিনি।

আত্মীয়দের কটাক্ষ উপেক্ষা করে ইতিহাস গড়লেন অসমের গীতিকা তালুকদার, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একমাত্র ভারতীয় মহিলা চিত্রসাংবাদিক
ভারত ও উত্তর-পূর্বের গর্ব

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে একমাত্র ভারতীয় মহিলা চিত্রসাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর তিনি ফিফা, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর এই সাফল্য শুধু অসম বা উত্তর-পূর্ব ভারতের নয়, গোটা দেশের নারী ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

আত্মীয়দের কটাক্ষ উপেক্ষা করে ইতিহাস গড়লেন অসমের গীতিকা তালুকদার, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একমাত্র ভারতীয় মহিলা চিত্রসাংবাদিক
পুরুষ-প্রধান ক্রীড়া ফটোসাংবাদিকতার জগতে নিজের দক্ষতা ও অধ্যবসায়ের জোরে নতুন ইতিহাস গড়েছেন অসমের গীতিকা তালুকদার। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একমাত্র ভারতীয় মহিলা চিত্রসাংবাদিক হিসেবে তিনি বিশ্ব ফুটবলের সেরা মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করছেন।

Leave a comment