অস্ট্রিয়ার ফেডারেল চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার তাঁর সরকারি ভারত সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। এটি তাঁর শুধু ভারত নয়, সমগ্র এশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর। এই সফরকে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর আগমনে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রক্ষা খাডসে তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও এসেছে, যেখানে অর্থনীতি, জ্বালানি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ সরকারি আধিকারিক এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই সফর রাজনৈতিক সংযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকেও লক্ষ্য রাখছে।
সফর চলাকালীন চ্যান্সেলর স্টকার ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই বৈঠকগুলির উদ্দেশ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা খুঁজে দেখা। প্রধানমন্ত্রী মোদী চ্যান্সেলর স্টকারের সম্মানে একটি আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং চ্যান্সেলর স্টকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় জ্বালানি সহযোগিতা, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ প্রযুক্তিতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং শিল্পোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিষয়, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ কৌশল নিয়েও আলোচনা প্রত্যাশিত। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে।
ভারত ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং বহুমাত্রিক। দুই দেশই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং বৈশ্বিক শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর অস্ট্রিয়া সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পায়। চ্যান্সেলর স্টকারের এই সফর সেই অগ্রগতিকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।











