আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বানাবেন কীভাবে? বাড়িতে বসেই অনলাইনে আবেদন, ধাপে ধাপে জেনে নিন নিয়ম ও যোগ্যতা

আয়ুষ্মান ভারত কার্ড কীভাবে তৈরি করবেন? সরকারি পোর্টালে যোগ্যতা যাচাই, ই-কেওয়াইসি, কার্ড ডাউনলোড এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের সুবিধা সম্পর্কে জানুন।

অসুস্থতার সময় চিকিৎসার বিপুল খরচ অনেক পরিবারের সঞ্চয়ে চাপ তৈরি করে। সেই পরিস্থিতিতে যোগ্য মানুষের চিকিৎসার খরচ কমাতে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা কাজে আসতে পারে। এই কার্ড তৈরি করতে সরকারি অফিসে যাওয়ার আগে বাড়িতে বসেই অনলাইনে যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব। কীভাবে আবেদন করবেন, কোন নথি লাগতে পারে এবং কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন—রইল ধাপে ধাপে সহজ নির্দেশিকা।

আয়ুষ্মান ভারত কার্ডে কী কী সুবিধা মেলে?

আয়ুষ্মান ভারত–প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা বা PM-JAY-এর আওতায় যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নির্দিষ্ট চিকিৎসার খরচের জন্য স্বাস্থ্যসুরক্ষা পেতে পারে। তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত চিকিৎসা ক্যাশলেস পদ্ধতিতে করানো যায়। তবে সব ধরনের চিকিৎসা বা হাসপাতালের প্রতিটি পরিষেবা এই সুবিধার আওতায় পড়ে না। 

বাড়িতে বসে কার্ড তৈরির ধাপ

সরকারি পোর্টাল: beneficiary.nha.gov.in

সরকারি পোর্টালে ঢুকুন

মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে আয়ুষ্মান ভারত বেনিফিশিয়ারি পোর্টাল খুলুন। চাইলে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সরকারি Ayushman App ব্যবহার করতে পারেন।

মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ ইন করুন

পোর্টালে Beneficiary হিসেবে লগ ইন করার বিকল্প বেছে নিন। মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP যাচাই করে প্রবেশ করুন।

নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন

স্কিম, রাজ্য, জেলা এবং পোর্টালে চাওয়া অন্যান্য তথ্য নির্বাচন করুন। এরপর আধার নম্বর বা উপলব্ধ পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের নাম খুঁজুন। তালিকায় নাম থাকলেই কার্ড তৈরি করা যাবে—এমন নয়; পরবর্তী যাচাইও প্রয়োজন হতে পারে।

ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করুন

যে সদস্যের কার্ড তৈরি করতে চান, তাঁর নামের পাশে কার্ড তৈরির বা ই-কেওয়াইসি করার বিকল্প থাকলে সেটি বেছে নিন। পোর্টালে দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী আধার-ভিত্তিক OTP, ফেস অথেন্টিকেশন বা উপলব্ধ অন্য যাচাইকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জমা দিন।

অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন

ই-কেওয়াইসি জমা দেওয়ার পর আবেদন যাচাই হতে পারে। সব আবেদন সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদিত হয় না। আবেদন অনুমোদিত হলে পোর্টালে কার্ড ডাউনলোডের বিকল্প পাওয়া যেতে পারে।

কার্ড ডাউনলোড করুন

অনুমোদনের পর নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকে Ayushman Card ডাউনলোড করুন। ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে প্রিন্ট করেও নিতে পারেন।

কারা আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের সুবিধা পাবেন?

সাধারণ PM-JAY প্রকল্পে সুবিধাভোগী নির্বাচন নির্দিষ্ট সরকারি ডেটাবেস ও যোগ্যতার মানদণ্ডের ভিত্তিতে হয়। গ্রামীণ এলাকায় নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে থাকা পরিবার এবং শহরে চিহ্নিত পেশার কিছু শ্রমজীবী পরিবারের নাম তালিকায় থাকতে পারে। শুধু কম আয় হলেই যে প্রত্যেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হবেন, তা নয়। নিজের নাম সরকারি পোর্টালে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। 

৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য বিশেষ সুবিধা

৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও আয়ুষ্মান ভারত PM-JAY-এর আওতায় বিশেষ স্বাস্থ্যসুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এই বয়সের যোগ্য নাগরিকরা আয় বা আর্থসামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে আবেদন করতে পারেন। তাঁদের জন্য আধার-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি প্রয়োজন। বিস্তারিত নিয়ম ও আবেদনপদ্ধতি সরকারি পোর্টালে দেখে নিন। 

পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য জরুরি তথ্য

পশ্চিমবঙ্গ ২০২৬ সালের জুনে আয়ুষ্মান ভারত PM-JAY বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে। তাই রাজ্যের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে বর্তমান সুবিধাভোগী তালিকা, যোগ্যতা ও কার্ড তৈরির নির্দেশিকা সরকারি পোর্টালে যাচাই করা বিশেষভাবে জরুরি। 

মনে রাখবেন, কার্ড তৈরি বা আবেদন করার জন্য কোনও অচেনা ব্যক্তিকে OTP, আধারের গোপন তথ্য বা টাকা দেবেন না। সমস্যা হলে সরকারি পোর্টাল, নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) অথবা তালিকাভুক্ত হাসপাতালের আয়ুষ্মান সহায়তা ডেস্কের সাহায্য নিন।

হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ কমাতে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত–প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB PM-JAY) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যোগ্য পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় বছরে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পেতে পারে। অনলাইনে সরকারি পোর্টাল বা আয়ুষ্মান অ্যাপের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা যাচাই, ই-কেওয়াইসি এবং কার্ড ডাউনলোডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তবে শুধু আবেদন করলেই কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়—প্রথমে প্রকল্পের যোগ্যতা ও তথ্য যাচাই জরুরি।

Leave a comment