বোঁ বোঁ করে মাথা ঘোরে? আয়ুষ্মান খুরানার মতো আপনিও কি ভার্টিগোর শিকার! লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায় জানুন

বারবার মাথা ঘোরে, ভারসাম্য হারান? জেনে নিন ভার্টিগো কী, এর লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়। আয়ুষ্মান খুরানাও ভুগেছিলেন এই সমস্যায়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হচ্ছে ঘরটা ঘুরছে? হাঁটতে গিয়ে বারবার ভারসাম্য হারাচ্ছেন? অনেকেই সাধারণ মাথা ঘোরাকে অবহেলা করেন। কিন্তু এই উপসর্গের পিছনে থাকতে পারে ভার্টিগো। বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না করালে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

ভার্টিগো কী?

ভার্টিগো কোনও নির্দিষ্ট রোগ নয়। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির মনে হয় তিনি নিজে বা তাঁর চারপাশের সবকিছু ঘুরছে। কখনও এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়, আবার কখনও কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। তীব্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে যায়।

কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

ভার্টিগোর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল মাথা ঘোরা। এর পাশাপাশি দেখা দিতে পারে—

চারপাশ ঘুরছে বলে মনে হওয়া

হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো

বমি বমি ভাব বা বমি

অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

মাথাব্যথা

চোখ কাঁপা বা ঝাপসা দেখা

কানে শব্দ বা জ্বালাপোড়া

সাময়িক শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া

অনেক ক্ষেত্রে বিছানায় শোওয়া বা মাথার অবস্থান পরিবর্তনের সময় উপসর্গ বেশি অনুভূত হয়।

কেন হয় এই সমস্যা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভার্টিগোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো Benign Paroxysmal Positional Vertigo (BPPV)। মাথার অবস্থান দ্রুত বদলালে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও—

কানের সংক্রমণ

অন্তঃকর্ণে তরল জমা হওয়া

ভেস্টিবুলার স্নায়ুর প্রদাহ

মাইগ্রেন

মাথায় আঘাত

অতিরিক্ত মানসিক চাপ

দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনের সামনে থাকা

এসব কারণেও ভার্টিগো হতে পারে।

আয়ুষ্মান খুরানাও ভুগেছিলেন এই সমস্যায়

বলিউড অভিনেতা Ayushmann Khurrana অতীতে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ভার্টিগোর কারণে শুটিংয়ের সময়ও তিনি সমস্যায় পড়েছিলেন। উচ্চতা বা হঠাৎ নড়াচড়ার সময় তাঁর মাথা ঘোরার অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত অস্বস্তিকর।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

ভার্টিগোর চিকিৎসা মূলত কারণের উপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন বা অন্য ওষুধ দেওয়া হতে পারে। কানের সংক্রমণ থাকলে প্রয়োজন হতে পারে নির্দিষ্ট চিকিৎসার।

এছাড়া—

পর্যাপ্ত ঘুম

স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার কমানো

ধীরে ধীরে মাথার অবস্থান পরিবর্তন করা

নিয়মিত ব্যালান্সিং এক্সারসাইজ করা

ভেস্টিবুলার রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি (VRT)

এসব পদ্ধতি উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

হঠাৎ চারপাশ ঘুরতে শুরু করা, ভারসাম্য হারানো বা বমি বমি ভাব—এসবই হতে পারে ভার্টিগোর লক্ষণ। বলিউড অভিনেতা Ayushmann Khurrana-ও একসময় এই সমস্যার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। ভার্টিগো আসলে কোনও রোগ নয়, বরং একাধিক শারীরিক সমস্যার উপসর্গ। কী কারণে হয়, কী লক্ষণ দেখা যায় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

Leave a comment