কর্নাটকে সাম্প্রতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজ্যের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (AICC) প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বি. কে. হরিপ্রসাদকে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (KPCC)-র নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছে।
এই পরিবর্তনের ফলে রাজ্যে সরকার এবং দলীয় সংগঠনের নেতৃত্বে নতুন ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ডি. কে. শিবকুমার কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর KPCC সভাপতির পদ ছেড়ে দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডি. কে. শিবকুমার কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ ত্যাগ করেন। কর্নাটক কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এখন তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা বি. কে. হরিপ্রসাদকে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির নতুন সভাপতি করা হয়েছে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরকারের সঙ্গে আরও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। হরিপ্রসাদ দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তিনি রাজ্যসভায় কর্নাটকের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং জাতীয় স্তরেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনগত বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ নেতা এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য সরকার ও সংগঠনের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা। বি. কে. হরিপ্রসাদকে এই দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হরিপ্রসাদ এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবেও কাজ করেছেন, যা দলের জন্য তাঁর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বি. কে. হরিপ্রসাদের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ। তিনি কংগ্রেসের সেই নেতাদের মধ্যে অন্যতম, যাঁরা সংগঠনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৮ সালে তাঁকে বিরোধী পক্ষের যৌথ প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার উপসভাপতি পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল, যদিও তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। তা সত্ত্বেও তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে দল ধারাবাহিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।
কর্নাটকে সম্প্রতি নতুন কংগ্রেস সরকার গঠিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ডি. কে. শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জি. পরমেশ্বরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোট ১২ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ নেতা এবং তরুণ মুখ—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কর্নাটক সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বসহ একাধিক বিশিষ্ট নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রবীণ নেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও ছিলেন।










