রয়্যাল নেভির একটি প্রশিক্ষণ উড়ানের সময় যুক্তরাজ্যের ডেভনে একটি মেরলিন এমকে-৪ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা তিনজন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।
ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ডেভনে বুধবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়ার অংশ হিসেবে উড়ানের সময় হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কৃষিজমিতে বিধ্বস্ত হয়।
ব্রিটিশ নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে দুর্ঘটনায় জড়িত তিনজন ক্রু সদস্য ঘটনাস্থলেই মারা যান। হেলিকপ্টারটিতে সাধারণত চারজন আরোহী থাকলেও ওই উড়ানে তিনজন সেনাসদস্য উপস্থিত ছিলেন।
রয়্যাল নেভির প্রধান অ্যাডমিরাল স্যার গুইন জেনকিন্স ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এটি নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি স্বাভাবিক প্রশিক্ষণ উড়ান পরিচালনা করছিল। উড়ানের সময় কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা মানবিক ভুলের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়নি।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তকারী সংস্থাগুলো ধ্বংসাবশেষ, ফ্লাইট ডেটা এবং প্রযুক্তিগত নথিপত্র পরীক্ষা করছে।
দুর্ঘটনায় জড়িত হেলিকপ্টারটি ছিল আগুস্তাওয়েস্টল্যান্ড AW101 মেরলিন এমকে-৪, যা রয়্যাল নেভির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে ব্যবহৃত হয়।
আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই হেলিকপ্টারটি বিশেষভাবে সামুদ্রিক অভিযানের জন্য নকশা করা হয়েছে। এতে সাধারণত চারজন ক্রু সদস্য থাকেন এবং একসঙ্গে প্রায় দুই ডজন সেনাসদস্য বহন করার সক্ষমতা রয়েছে।
এর বহুমুখী সক্ষমতা রয়্যাল নেভির বহরে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানানো হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং দুর্ঘটনার কারণ দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি একে “অত্যন্ত দুঃখজনক” ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই কঠিন সময়ে দেশ নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ডেভন অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবাকর্মীদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা ভোরে একটি জোরালো শব্দ শুনেছিলেন এবং পরে কৃষিজমি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্ত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য এলাকাটিকে নিরাপদ ঘোষণা করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ সামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। তবে রয়্যাল নেভি ও বিমানবাহিনী নিরাপত্তা মান আরও জোরদার করার দাবি করে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনা বিরল হলেও সামরিক মহড়ার সময় বিদ্যমান ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আনে।
দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন দেশ যুক্তরাজ্যের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। সামরিক সহযোগী দেশগুলোও নিহতদের পরিবারের প্রতি শোকবার্তা পাঠিয়েছে।
ন্যাটো সহযোগীরা ঘটনাটিকে একটি “দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, প্রশিক্ষণ অভিযানে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।









