মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে উঠে এল এক অনন্য লড়াইয়ের গল্প। Bankura জেলার রাজমিস্ত্রি আবু সামাদ—দিনে নির্মাণশ্রমিক, রাতে কবি। ইট, বালি আর সিমেন্টের ভিড়ে থেকেও যিনি গড়ে তুলেছেন শব্দের নিজস্ব রাজ্য। শ্রম আর স্বপ্নের মেলবন্ধনে আজ তিনি জেলার গর্ব।
দিনভর রাজমিস্ত্রি, সন্ধ্যায় কবিতার জগৎ
ছোট্ট এক কামরার ঘর। সারাদিন নির্মাণসাইটে হাড়ভাঙা খাটুনি। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। খাতা-কলমে ডুবে যান আবু সামাদ। যেখানে অন্য শ্রমজীবী মানুষ বিশ্রাম খোঁজেন, সেখানে তাঁর বিশ্রাম কবিতায়। শ্রমের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় শব্দের ছন্দ।
নজরুল প্রেরণা, শত শত কবিতার জন্ম
রেডিওতে ভেসে আসা Kazi Nazrul Islam-এর কবিতা ও গান তাঁর সৃষ্টিশীলতার মূল প্রেরণা। সেই অনুপ্রেরণায় তিনি লিখেছেন ৩০০-রও বেশি কবিতা। ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছেন পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ। শুধু তাই নয়, নিজস্ব একটি সাহিত্যপত্রিকাও সম্পাদনা করেন তিনি।
‘নাইন ফেল’ থেকেও সাহিত্য সম্মান
শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র নবম শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু সাহিত্যচর্চায় কখনও থামেননি। তাঁর লেখা রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছেছে দেশ-বিদেশে। বিশেষ প্রাপ্তি হিসেবে তিনি আজও আগলে রেখেছেন Mahasweta Devi-র পাঠানো একটি উৎসাহের চিঠি। সেই চিঠিই তাঁর কাছে অনুপ্রেরণার অমূল্য সম্পদ।
মুর্শিদাবাদ থেকে বাঁকুড়া, দ্বৈত জীবনের লড়াই
জন্ম মুর্শিদাবাদে। কাজের সন্ধানে বহু বছর আগে চলে আসেন বাঁকুড়ায়। দিনের পর দিন নির্মাণসাইটে শ্রম, আর রাতভর শব্দের নির্মাণ—এই দ্বৈত সত্ত্বাই তাঁকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। ইট-পাথরের মাঝেও তাঁর মন পড়ে থাকে ভাষা আর ছন্দের জগতে।
মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসাই শক্তি
মাতৃভাষা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভাষা কেবল যোগাযোগ নয়, আত্মপরিচয়। সামাদের জীবন যেন সেই দর্শনের বাস্তব রূপ। সীমিত সুযোগ-সুবিধা সত্ত্বেও তিনি বাংলা ভাষাকে ভালোবেসে গড়ে তুলেছেন নিজের সাহিত্যভুবন। প্রমাণ করেছেন—প্রতিভা কখনও ডিগ্রির মুখাপেক্ষী নয়।
পেশায় রাজমিস্ত্রি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘নাইন ফেল’। তবু থেমে থাকেননি। রেডিওতে Kazi Nazrul Islam-এর কবিতা শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে ৩০০-র বেশি কবিতা লিখেছেন বাঁকুড়ার আবু সামাদ। প্রকাশ করেছেন পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ। এমনকি স্বয়ং Mahasweta Devi-র কাছ থেকেও পেয়েছেন উৎসাহের চিঠি।











