প্রকৃতির কোলে বাঁকুড়ার নতুন আকর্ষণ বড়দি পাহাড়! কম খরচেই পাহাড়-জঙ্গল-নদীর স্বাদ, দু’ দিনের ছুটিতে আদর্শ ঠিকানা

প্রকৃতির কোলে বাঁকুড়ার নতুন আকর্ষণ বড়দি পাহাড়! কম খরচেই পাহাড়-জঙ্গল-নদীর স্বাদ, দু’ দিনের ছুটিতে আদর্শ ঠিকানা

নতুন বছরে ঘোরার পরিকল্পনা কিন্তু বাজেট নিয়ে চিন্তা? তাহলে আর দেরি নয়। বাঁকুড়া জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত বড়দি পাহাড় এখন শীতকালীন ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন ঠিকানা। অল্প খরচে পাহাড়, জঙ্গল আর নদীর স্বাদ—সব মিলিয়ে দু’ দিনের ছুটিতে মন ভরানোর আদর্শ জায়গা হয়ে উঠেছে বড়দি।

শীতের রঙে মোড়া বড়দি পাহাড়

জানুয়ারির কনকনে শীতে বড়দি পাহাড়ে শুরু হয়েছে পাতা ঝরার মরশুম। শাল, পলাশ ও অন্যান্য বনজ গাছের শুকনো পাতা পাহাড়ি ঢাল আর পথ ঢেকে ফেলেছে বাদামি, হলুদ ও লালচে রঙে। হালকা কুয়াশা, ঠান্ডা হাওয়া আর নরম রোদের মেলবন্ধনে গোটা পাহাড় জুড়ে তৈরি হয়েছে এক স্বপ্নিল পরিবেশ।

যাতায়াত সহজ, ঝক্কি নেই

বাঁকুড়া শহর থেকে বড়দি পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় ৪৫–৫০ কিলোমিটার। বাঁকুড়া রেলস্টেশন বা বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাতনা কিংবা রানিবাঁধের দিকে বাস বা গাড়িতে পৌঁছে সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহনে সহজেই পাহাড়ে যাওয়া যায়। যাঁরা নিজস্ব গাড়িতে আসছেন, তাঁদের জন্য পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত ভালো রাস্তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

কী কী দেখবেন এখানে?

বড়দি পাহাড়ে ঘোরার মতো জায়গার কোনও অভাব নেই। পাহাড়ের চূড়া থেকে চোখে পড়ে জঙ্গলমহল এলাকা ও গ্রামবাংলার বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্য। বিকেলের দিকে সূর্যাস্তের সময় পাহাড়ের উপর থেকে সোনালি আলোয় মোড়া প্রকৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। আশপাশের জঙ্গল, ছোট ঝরনা ও পাথুরে পথ ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছেও বাড়তি আকর্ষণ।

পিকনিকের আদর্শ গন্তব্য

নতুন বছরের শুরু থেকেই বড়দি পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে পিকনিক করতে আসছেন অনেকেই। পাহাড়ের পাদদেশ কিংবা নদীর ধার ঘেঁষা খোলা জায়গায় নিরিবিলি পরিবেশে পিকনিক করা যায় একেবারে কম খরচে।

কম খরচে থাকার সুবিধা

বড়দি পাহাড় ইকো রিসোর্টে রয়েছে থাকার সুব্যবস্থা। এখানে ঘরভাড়া শুরু হচ্ছে মাত্র ১২০০ টাকা থেকে। ফলে বাজেট পর্যটকদের কাছে এই জায়গা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

এই শীতে কম বাজেটে প্রকৃতির কোলে সময় কাটাতে চাইলে বাঁকুড়ার বড়দি পাহাড় হয়ে উঠছে পর্যটকদের নতুন পছন্দ। পাহাড়, জঙ্গল ও নদীর মিলনে মনোরম পরিবেশ, সহজ যাতায়াত ও সস্তায় থাকার ব্যবস্থায় জনপ্রিয়তা বাড়ছে এই পর্যটনকেন্দ্রের।

 

Leave a comment