প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ—শিশু থেকে বড় সবাইকে এই অভ্যাস করতে বলা হয়। কিন্তু জানেন কি, এই দুধই কিছু মানুষের শরীরের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে? বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের চিফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ডাঃ প্রিয়াঙ্কার মতে, দুধ উপকারী হলেও সবার জন্য তা সমানভাবে নিরাপদ নয়।
দুধ কেন পুষ্টিকর
দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন B12 এবং প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড। এগুলি হাড় ও দাঁত মজবুত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে শক্তি জোগায়। তাই পরিমিত পরিমাণে দুধ অনেকের জন্যই উপকারী।
শুধু দুধেই ভরসা বিপজ্জনক
ডাঃ প্রিয়াঙ্কা জানান, যদি কেউ শুধুমাত্র দুধের উপর নির্ভর করে এবং অন্যান্য খাবার থেকে ফাইবার না নেন, তাহলে অন্ত্রে ফাইবারের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে ভাল ব্যাকটেরিয়া কমে যায় এবং ধীরে ধীরে হজমের সমস্যা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা শুরু হয়।
ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা কী
দুধে থাকা ল্যাকটোজ ভাঙতে শরীরে ল্যাকটেজ এনজাইম দরকার। অনেক মানুষের শরীরে এই এনজাইম পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয় না। ফলে দুধ খেলেই পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া, বমি ভাব বা পেট ব্যথা দেখা দেয়। এই অবস্থাকেই বলা হয় ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স।
কারা দুধ খাবেন না
যাঁরা দুধ খাওয়ার পর বারবার পেটের সমস্যা অনুভব করেন, যাঁদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, অথবা যাঁদের অন্ত্র দুর্বল—তাঁদের নিয়মিত দুধ খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। একটি অনুমান অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কোনও না কোনও মাত্রায় দুধ অসহিষ্ণুতায় ভোগেন।
কীভাবে দুধ খাবেন নিরাপদে
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যান্য খাবারের সঙ্গে দিনে এক গ্লাস দুধ খেলে অনেকেরই সমস্যা হয় না। এছাড়া ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ, দই বা ছানার মতো দুগ্ধজাত খাবার বেছে নিলে ঝুঁকি কমতে পারে।
দুধকে সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাবার বলা হলেও সবার শরীর দুধ সহ্য করতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন দুধ খাওয়া হজমের সমস্যা, পেটের গোলমাল ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। কারা দুধ এড়িয়ে চলবেন, জানুন বিস্তারিত।













