পূর্ব ভারতে প্রথম ‘হাতির সাবওয়ে’ বাঁকুড়ায়, মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের

বাঁকুড়ায় পূর্ব ভারতের প্রথম হাতির সাবওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ। ২১ কিমি সোলার ফেন্সিং-সহ এই প্রকল্প মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। জানুন বিস্তারিত।

বছরের পর বছর ধরে হাতির হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল এলাকার বহু গ্রাম। কখনও রেললাইন পার হতে গিয়ে হাতির মৃত্যু, কখনও জনবসতিতে ঢুকে পড়ে ফসল ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। এই সমস্যা সমাধানে এবার অভিনব উদ্যোগ নিল প্রশাসন। পূর্ব ভারতে প্রথমবার বাঁকুড়ায় তৈরি হতে চলেছে হাতিদের জন্য বিশেষ সাবওয়ে, যা নিরাপদ বন্যপ্রাণ চলাচলের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

পূর্ব ভারতে প্রথম ‘হাতির সাবওয়ে’ বাঁকুড়ায়, মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের

পূর্ব ভারতে প্রথম হাতির সাবওয়ে, বাঁকুড়ায় শুরু নতুন প্রকল্প

মানুষ ও বন্যপ্রাণের সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে বাঁকুড়ায় শুরু হতে চলেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশবান্ধব প্রকল্প। বন দফতর, ভারতীয় রেল এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের যৌথ উদ্যোগে হাতিদের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য বিশেষ সাবওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তৈরি হবে প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সৌরচালিত সোলার ফেন্সিং।

কোথায় তৈরি হবে এই সাবওয়ে?

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়জোড়া ফরেস্ট রেঞ্জের লালবাজার টি-পয়েন্ট, গোঁসাইপুর এবং বরিয়ার মাঝামাঝি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় এই সাবওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বহু বছর ধরেই এই করিডর ব্যবহার করে হাতির পাল এক বনাঞ্চল থেকে অন্য বনাঞ্চলে যাতায়াত করে। মাঝখানে রেললাইন ও সড়ক থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। নতুন এই অবকাঠামো সেই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

পূর্ব ভারতে প্রথম ‘হাতির সাবওয়ে’ বাঁকুড়ায়, মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের

সোলার ফেন্সিংয়ের বড় ভূমিকা

শুধু সাবওয়ে নয়, প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হবে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সৌরচালিত ফেন্সিং। এই বেড়া হাতিদের কোনও ক্ষতি করবে না। বরং তাদের নির্দিষ্ট করিডরে চলাচল করতে সাহায্য করবে। ফলে জনবসতিতে হাতির প্রবেশ কমবে এবং ফসল, বাড়িঘর ও অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যৌথভাবে চলছে পরিকল্পনার কাজ

প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে রেল কর্তৃপক্ষ, বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগ এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর সম্ভাব্য এলাকা চিহ্নিত করছে। কোথায় সাবওয়ে তৈরি হলে হাতিদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে না, সেই বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের দিকটি মাথায় রেখেই নকশা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল এলাকায় প্রতি বছরই মানুষ-হাতি সংঘাতের একাধিক ঘটনা সামনে আসে। হাতির হানায় ফসল নষ্ট, বাড়িঘর ভাঙচুর, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে রেললাইন পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় হাতির মৃত্যুও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাই নিরাপদ বন্যপ্রাণ করিডর তৈরি হলে মানুষ ও হাতি—উভয়ের নিরাপত্তাই বাড়বে বলে মনে করছেন বন বিশেষজ্ঞরা।

পূর্ব ভারতে প্রথম ‘হাতির সাবওয়ে’ বাঁকুড়ায়, মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের

প্রশাসনের প্রত্যাশা

প্রশাসনের মতে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মানুষ-হাতি সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি হাতিদের প্রাকৃতিক বিচরণপথ সুরক্ষিত থাকবে এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণেও নতুন দিশা দেখাবে এই উদ্যোগ।

পূর্ব ভারতে প্রথম ‘হাতির সাবওয়ে’ বাঁকুড়ায়, মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের

মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ বাঁকুড়ায়। পূর্ব ভারতে প্রথমবার হাতিদের নিরাপদ চলাচলের জন্য তৈরি হতে চলেছে বিশেষ ‘হাতির সাবওয়ে’। পাশাপাশি নির্মিত হবে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সৌরচালিত সোলার ফেন্সিং। বন দফতর, ভারতীয় রেল ও ভূমি দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

Leave a comment