বর্ষার ছোঁয়ায় সবুজে মোড়া বাঁকুড়া! শাল-পলাশের বন, রহস্যময় মন্দির, পাহাড়-ঝরনা—স্বল্প খরচে ঘুরে আসুন ৬ অনন্য গন্তব্যে

বর্ষায় ঘুরে আসুন বাঁকুড়ার সেরা ৬ পর্যটনকেন্দ্রে। শুশুনিয়া পাহাড়, সোনাতপল মন্দির, সুতান, বড়দি পাহাড়, তালবেড়িয়া ড্যাম ও মশক পাহাড়ে মিলবে প্রকৃতি, ইতিহাস ও রোমাঞ্চের অনন্য অভিজ্ঞতা।

বর্ষা নামলেই বাংলার প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। লালমাটির পথে সবুজ অরণ্যের ছোঁয়া, পাহাড়ের বুক বেয়ে নেমে আসা জলধারা আর শতাব্দীপ্রাচীন মন্দিরের রহস্য—সব মিলিয়ে বাঁকুড়া এই সময় পর্যটকদের কাছে এক অন্যরকম আকর্ষণের কেন্দ্র। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েক দিনের স্বল্প বাজেটের সফরে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে চাইলে বাঁকুড়া হতে পারে আদর্শ ঠিকানা।

বর্ষার ছোঁয়ায় সবুজে মোড়া বাঁকুড়া! শাল-পলাশের বন, রহস্যময় মন্দির, পাহাড়-ঝরনা—স্বল্প খরচে ঘুরে আসুন ৬ অনন্য গন্তব্যে

শুশুনিয়া পাহাড়ে ইতিহাস ও প্রকৃতির যুগলবন্দি

বাঁকুড়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র শুশুনিয়া পাহাড় বর্ষায় আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা রাজা চন্দ্রবর্মনের ঐতিহাসিক শিলালিপি আজও ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। পাশাপাশি রয়েছে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন শৈবক্ষেত্র এবং পাহাড়ি ঝরনা ‘জমধারা’। কলকাতা থেকে ট্রেনে ছাতনা স্টেশন পৌঁছে সেখান থেকে সহজেই শুশুনিয়া যাওয়া যায়।

সোনাতপলের রহস্যময় সূর্যমন্দির টানে ইতিহাসপ্রেমীদের

দ্বারকেশ্বর নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত সোনাতপল গ্রামের প্রাচীন মন্দির ঘিরে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক রহস্য। অনেক গবেষকের মতে এটি আসলে একটি জৈন রেখদেউল, যদিও স্থানীয়ভাবে এটি সূর্যমন্দির হিসেবেই পরিচিত। স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য এই স্থান পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।

বর্ষার ছোঁয়ায় সবুজে মোড়া বাঁকুড়া! শাল-পলাশের বন, রহস্যময় মন্দির, পাহাড়-ঝরনা—স্বল্প খরচে ঘুরে আসুন ৬ অনন্য গন্তব্যে

রানিবাঁধের সুতান—প্রকৃতির কোলে শান্তির ঠিকানা

শাল, পলাশ ও মহুলের ঘন বন, লালমাটির রাস্তা, পাখির ডাক আর নির্জন পরিবেশ—সব মিলিয়ে রানিবাঁধের সুতান যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। বর্ষার সময় এখানকার ছোট ছোট ঝরনা, বনপথে হাঁটা এবং সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায়। যারা শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ গন্তব্য।

বড়দি পাহাড়ে ট্রেকিং ও মনভোলানো সূর্যাস্ত

বাঁকুড়া শহর থেকে প্রায় ৪৫-৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বড়দি পাহাড় অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখা যায় জঙ্গলমহল ও বিস্তীর্ণ গ্রামবাংলার মনোরম দৃশ্য। আশপাশের জঙ্গল, পাথুরে পথ ও ছোট ঝরনা ট্রেকিংয়ের জন্যও উপযুক্ত।

বর্ষার ছোঁয়ায় সবুজে মোড়া বাঁকুড়া! শাল-পলাশের বন, রহস্যময় মন্দির, পাহাড়-ঝরনা—স্বল্প খরচে ঘুরে আসুন ৬ অনন্য গন্তব্যে

তালবেড়িয়া ড্যাম—সবুজ পাহাড় আর জলরাশির অপূর্ব মেলবন্ধন

ঝিলিমিলি অঞ্চলের রাইতারা গ্রামের কাছে অবস্থিত তালবেড়িয়া ড্যাম বর্ষায় যেন আরও প্রাণ ফিরে পায়। বিশাল শাল-শিমূলের বন পেরিয়ে ড্যামে পৌঁছলেই চোখে পড়ে পাহাড় আর জলরাশির অসাধারণ সমাহার। পরিষ্কার দিনে এখানকার দৃশ্য অনেক পর্যটকের কাছেই বিদেশি পর্যটনকেন্দ্রের অনুভূতি এনে দেয়।

মশক পাহাড়ের গুপ্ত গুহা ও প্রাচীন মন্দিরের টান

অভিযানপ্রেমীদের জন্য মশক পাহাড় এক অনন্য গন্তব্য। পাহাড়ের গুহায় প্রাচীন কারুকার্য, পুরনো শিব ও কালীমন্দির এবং বিরূপাক্ষ মুনির তপস্যার লোককথা এই জায়গাকে রহস্যময় করে তুলেছে। প্রাকৃতিক পাথরের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে চারপাশের সবুজ অরণ্যের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

বর্ষার ছোঁয়ায় সবুজে মোড়া বাঁকুড়া! শাল-পলাশের বন, রহস্যময় মন্দির, পাহাড়-ঝরনা—স্বল্প খরচে ঘুরে আসুন ৬ অনন্য গন্তব্যে

বর্ষার মরশুমে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য হয়ে উঠেছে বাঁকুড়া। শুশুনিয়া পাহাড়, সোনাতপলের রহস্যময় প্রাচীন মন্দির, রানিবাঁধের সুতান, বড়দি পাহাড়, তালবেড়িয়া ড্যাম এবং মশক পাহাড়—এই ছয়টি দর্শনীয় স্থানে মিলবে পাহাড়, জঙ্গল, ঝরনা, ইতিহাস ও অভিযানের অনন্য মেলবন্ধন। কম খরচে সপ্তাহান্তের ভ্রমণের জন্য বাঁকুড়া হতে পারে সেরা পছন্দ।

Leave a comment