জঙ্গলমহলের মাটিতে লুকিয়ে থাকা শিল্প-সংস্কৃতির ভাণ্ডারে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বাঁকুড়ার শিক্ষক মহাদেব। স্কুলের ক্লাসরুমের বাইরে তাঁর আর এক পরিচয়—তিনি একজন অসাধারণ মুরাল শিল্পী। দেওয়ালে খোদাই করা শিল্পকর্মে তিনি ফুটিয়ে তুলছেন গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধুনিকতার মেলবন্ধন। তাঁর তুলির আঁচড়ে সাধারণ দেওয়ালও যেন হয়ে উঠছে জীবন্ত ক্যানভাস।
শিক্ষকতার পাশাপাশি শিল্পচর্চায় অনন্য মহাদেব
বাঁকুড়া জেলা স্কুলের শিক্ষক মহাদেববাবুর জীবনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শিল্পচর্চা। ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল তাঁর। সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহই রূপ নিয়েছে মুরাল আর্টে। বর্তমানে তাঁর তৈরি দেওয়ালচিত্র বিভিন্ন জায়গায় বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।
মুরাল আর্টে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
মহাদেববাবুর শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সূক্ষ্ম নকশা ও ভাবনার গভীরতা। গ্রামীণ সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য এবং আধুনিক শিল্পধারাকে একসঙ্গে মিশিয়ে তিনি তৈরি করছেন অনন্য সব মুরাল। তাঁর শিল্পে ফুটে ওঠে বাংলার মাটি, মানুষের জীবনযাপন এবং লোকসংস্কৃতির নানা রূপ।
ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও ছড়াচ্ছেন শিল্পের আগ্রহ
শুধু নিজের শিল্পচর্চাতেই সীমাবদ্ধ নন তিনি। স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যেও শিল্পকলার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে বিশেষ উদ্যোগী মহাদেববাবু। নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি প্রতিনিয়ত।
নাক দিয়ে সানাই বাজানোর বিরল প্রতিভা
মুরাল আর্টের পাশাপাশি তাঁর আর এক বিস্ময়কর প্রতিভা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। নাকের মাধ্যমে সানাইয়ের সুর তোলার অদ্ভুত দক্ষতা রয়েছে তাঁর। শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের বিশেষ অনুশীলনের মাধ্যমে এই শিল্পচর্চা করে আসছেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তাঁর এই অভিনব পরিবেশনা বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্তরেও মিলেছে প্রশংসা
নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই সঙ্গীতচর্চা আজ আন্তর্জাতিক স্তরেও পৌঁছে গিয়েছে। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর একটি যোগ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তাঁর এই বিশেষ প্রতিভা প্রশংসিত হয়েছে বিদেশি দর্শকদের কাছেও। শিল্প ও সঙ্গীত—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সৃজনশীলতা মুগ্ধ করেছে বহু মানুষকে।
অনুপ্রেরণার পিছনে গ্রামের স্মৃতি
মহাদেববাবুর কথায়, ছোটবেলায় গ্রামের এক বাউল শিল্পীর সানাইয়ের সুর তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। সেই স্মৃতিই তাঁকে আজও শিল্প ও সঙ্গীতচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীদের কাজ থেকেও তিনি নিয়মিত অনুপ্রেরণা পান বলে জানিয়েছেন।
পেশায় শিক্ষক হলেও শিল্পই তাঁর নেশা। বাঁকুড়ার মহাদেববাবু মুরাল আর্টের মাধ্যমে সাধারণ দেওয়ালকে জীবন্ত শিল্পে রূপ দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, নাক দিয়ে সানাই বাজানোর বিরল প্রতিভাও তাঁকে এনে দিয়েছে বিশেষ পরিচিতি।












