ট্রফি নেই, পুরস্কার নেই—তবুও জেতার লড়াই! উল্টো রথে বেলডাঙার রাস্তায় নামল প্রায় ৩০টি রথ, দেখতে উপচে পড়ল ভিড়

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় উল্টো রথ ঘিরে অভিনব প্রতিযোগিতা। কোনও ট্রফি বা আর্থিক পুরস্কার ছাড়াই প্রায় ৩০টি রথ নিয়ে জমজমাট উৎসব, বৃষ্টির মধ্যেও ভিড় দর্শনার্থীদের।

উৎসবের আনন্দে প্রতিযোগিতা থাকলেও সবসময় জয়ের জন্য পুরস্কার প্রয়োজন হয় না। তারই নজির দেখা গেল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। উল্টো রথের দিন শহরের বিভিন্ন পাড়া ও বাড়ির রথকে সাজিয়ে রাস্তায় নামানো হল। একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় তৈরি হল উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—জিতলেও মিলবে না কোনও ট্রফি বা আর্থিক পুরস্কার। আসল জয় হল পাড়ার মানুষের সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতায়।

বেলডাঙায় উল্টো রথ মানেই অভিনব প্রতিযোগিতা

মুর্শিদাবাদের প্রাচীন শহরগুলির মধ্যে অন্যতম বেলডাঙা। কার্তিক মাসে যেমন এখানকার কার্তিক লড়াই জনপ্রিয়, তেমনই সাম্প্রতিক সময়ে উল্টো রথযাত্রাও শহরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠছে।উল্টো রথের সন্ধ্যায় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন পাড়া ও বাড়ির রথ নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। রথে বিরাজ করেন প্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রা। শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে রথগুলি নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়।

পুরস্কার নেই, তবুও চলে সেরা হওয়ার লড়াই

এই প্রতিযোগিতায় নেই কোনও আর্থিক পুরস্কার কিংবা বিজয়ীর ট্রফি। তবুও নিজের পাড়ার রথকে সবার থেকে আলাদা করে তুলতে চলে জোরদার প্রস্তুতি। কে কত সুন্দরভাবে রথ সাজাতে পারে, কার থিম কতটা অভিনব—সেই নিয়েই চলে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা।বিভিন্ন পাড়া থেকে রথ নিয়ে এসে ছাপাখানার মোড় পর্যন্ত শোভাযাত্রা করা হয়। ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাসে গোটা এলাকা উৎসবের চেহারা নেয়।

ফুল থেকে ডাকের সাজ, নজর কাড়ল নানা থিম

বেলডাঙার উল্টো রথের অন্যতম আকর্ষণ হল রথের সাজসজ্জা। কোনও রথ সাজানো হয় ফুল দিয়ে, আবার কোনওটিতে ফুটিয়ে তোলা হয় ডাকের সাজের আদল। শুধু তাই নয়, কোনও কোনও রথে দেখা যায় তিরুপতি মন্দিরের অনুকরণে তৈরি বিশেষ নকশা।এমন বৈচিত্র্যময় সাজ দেখতে রাস্তায় ভিড় করেন সাধারণ মানুষ। বৃষ্টির মধ্যেও উৎসাহে কোনও খামতি দেখা যায়নি।

প্রায় ৩০টি রথে জমজমাট উৎসব

এবারের উল্টো রথের শোভাযাত্রায় বেলডাঙার বিভিন্ন এলাকার রথ অংশ নেয়। কামারপাড়া, মণ্ডপতলা, চ্যাটার্জিপাড়া, বুড়োশিবতলা, আশ্রমপাড়া, জনকল্যাণ সমিতি-সহ একাধিক এলাকার রথ ছিল এই আয়োজনে।জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় ৩০টি রথ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। রাস্তায় দেখা যায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার নানা ধরনের সুসজ্জিত রথ। ফলে সন্ধ্যা নামতেই বেলডাঙার রাস্তাগুলি কার্যত উৎসবের মঞ্চে পরিণত হয়।

রথ দেখতে ভিড়, বাড়ে স্থানীয় ব্যবসাও

শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, বেলডাঙার এই অভিনব উল্টো রথ দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন। উৎসবকে ঘিরে ছোট ব্যবসায়ীরাও রাস্তার পাশে দোকান সাজিয়ে বসেন। ফলে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও কিছুটা প্রভাব পড়ে।

সোজা রথ নয়, উল্টো রথেই বিশেষ আকর্ষণ

বেলডাঙায় সোজা রথযাত্রাকে ঘিরে এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন না হলেও উল্টো রথে এই বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়। কার্তিক লড়াইয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত বেলডাঙা। এবার সেই তালিকায় ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে উল্টো রথের এই অভিনব প্রতিযোগিতাও।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় উল্টো রথ ঘিরে তৈরি হল এক অন্যরকম প্রতিযোগিতার আবহ। এখানে নেই কোনও ট্রফি, নেই আর্থিক পুরস্কারও। তবুও পাড়ায় পাড়ায় রথ সাজানোর প্রতিযোগিতায় দেখা গেল তুমুল উৎসাহ। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শহরের রাস্তায় নামল প্রায় ৩০টি রথ। ফুলের সাজ থেকে ডাকের সাজ, এমনকী তিরুপতি মন্দিরের আদলেও সাজানো হয়েছিল রথ। এই অভিনব উৎসব দেখতে ভিড় জমালেন বহু মানুষ।

Leave a comment