বেঙ্গল সাফারিতে ‘নতুন অতিথি’! শীলার সাম্রাজ্যে আসছে আরেক বাঘিনী, বদলাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য

শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে নতুন বাঘিনীর আগমন। ইনব্রিডিং রুখতে কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের বড় সিদ্ধান্ত, বদলাতে পারে বাঘেদের ভবিষ্যৎ।

দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে ‘রানী’ হিসেবে পরিচিত বাঘিনী শীলা। তার বংশধরদের দাপটে ভরপুর পুরো সাফারি এলাকা। তবে এই স্বাভাবিক ছন্দের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক বড় বিপদের আশঙ্কা—একই রক্তের বংশবিস্তার ভবিষ্যতে ডেকে আনতে পারে জেনেটিক দুর্বলতা। সেই কারণেই এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কর্তৃপক্ষ।

শীলার রাজত্বে লুকিয়ে থাকা বিপদের ছায়া

শীলার নেতৃত্বে বেঙ্গল সাফারিতে তৈরি হয়েছে এক বিশাল বাঘ পরিবার। ছোট-বড় মিলিয়ে বহু বাঘ এই একই বংশের অংশ। দেখতে সবকিছু স্বাভাবিক হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, একই বংশের মধ্যে প্রজনন (ইনব্রিডিং) ভবিষ্যতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে শাবকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং জন্মগত ত্রুটির সম্ভাবনাও বাড়ে।

ইনব্রিডিং ঠেকাতে নতুন পরিকল্পনা

এই উদ্বেগ থেকেই শুরু হয়েছে নতুন উদ্যোগ। পাহাড়ের কোলে অবস্থিত পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক-এ থাকা একটি বাঘিনীকে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন জিনগত বৈচিত্র্য আনতেই এই পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতের বাঘ প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা।

বাঘ বিনিময়ের সিদ্ধান্তে সবুজ সংকেত

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি বাঘিনী আসবে বেঙ্গল সাফারিতে, আর এখান থেকে একটি বাঘকে পাঠানো হবে দার্জিলিংয়ের চিড়িয়াখানায়। এই বিনিময় প্রক্রিয়ায় সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ, যা দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানার প্রাণী সংরক্ষণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

নীরব জঙ্গলে নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা

সব কিছু আপাতত আগের মতোই শান্ত—গাছের ছায়া, পাখির ডাক, আর বাঘেদের নিঃশব্দ চলাফেরা। কিন্তু এই নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বড় পরিবর্তনের আভাস। নতুন বাঘিনীর আগমনে শীলার রাজ্যে শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়, যা বদলে দিতে পারে বেঙ্গল সাফারির ভবিষ্যৎ।

শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি-তে বাঘিনী শীলার একচ্ছত্র আধিপত্যের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ। ইনব্রিডিং-এর ঝুঁকি কাটাতে আনা হচ্ছে নতুন বাঘিনী। কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে শুরু হচ্ছে বাঘ বিনিময়ের বিশেষ পরিকল্পনা।

Leave a comment