ভোটের আগে উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই ধূপগুড়িতে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। জনসংযোগের মাঝে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চা খেতে খেতেই একের পর এক অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি।
চায়ের কাপে ঝড়, সরাসরি আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে
কোচবিহার যাওয়ার পথে ধূপগুড়ির মার্কেট মোড়ে থামে সুকান্তর কনভয়। একটি সাধারণ চায়ের দোকানে বসেই কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। সেই আড্ডাতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি অভিযোগ তোলেন, রাজ্যের চা শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চা বাগান থেকে ভোটের বার্তা
চা বাগানের শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে সুকান্তর দাবি, “এইবার চা বাগানের মানুষই ভোটে জবাব দেবে।” তার কথায়, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার উত্তরবঙ্গের চা শিল্প, আর তার ফল ভুগছেন সাধারণ শ্রমিকরাই। তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী নির্বাচনে এই ক্ষোভই বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে।
টি ট্যুরিজম ও বন্ধ বাগান নিয়ে তোপ
টি ট্যুরিজম প্রকল্পের সমালোচনা করে সুকান্ত বলেন, বন্ধ চা বাগানগুলিকে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এই নীতির ফলে চা শিল্পের স্বাভাবিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে।
আলু চাষি থেকে বাজার—সবখানেই অসন্তোষ
চা শিল্পের পাশাপাশি আলু চাষিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন বিজেপি নেতা। তার অভিযোগ, রাজ্যের নীতির কারণে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, অথচ বাজারে আলুর দাম চড়া। দালাল চক্র সক্রিয় থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
‘এবার অবসর নিন’—রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “অনেক হয়েছে, এবার অবসর নিন, আমরা পেনশন দেব।” এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক, যা নির্বাচনের আগে উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়ি-তে চা আড্ডায় বসে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন সুকান্ত মজুমদার। চা শিল্প ধ্বংস থেকে আলু চাষির দুর্দশা—সবকিছু নিয়েই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে নিশানা করলেন তিনি।











