ধর্মীয় পর্যটনের মানচিত্রে বীরভূমকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, জেলার বিখ্যাত শক্তিপীঠগুলিকে একত্রিত করে গড়ে তোলা হবে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটকদের জন্য যেমন উন্নত সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে, তেমনই কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাজেটে বড় ঘোষণা, এক ছাতার তলায় বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী শক্তিপীঠ
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়েছে, বীরভূমের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত পর্যটন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় জেলার বিখ্যাত শক্তিপীঠ ও তীর্থস্থানগুলিকে আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। লক্ষ্য, দেশ-বিদেশের আরও বেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করা এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালী করা।
কোন কোন শক্তিপীঠ থাকবে এই বিশেষ সার্কিটে?
প্রস্তাবিত ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বীরভূমের অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা, নলাটেশ্বরী, বক্রেশ্বর, নন্দিকেশ্বরী এবং ফুল্লরাতলা। এই ধর্মীয় কেন্দ্রগুলিকে একটি সমন্বিত পর্যটন রুটের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে, যাতে ভক্ত ও পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হয়।

পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক সুবিধায় বদলে যাবে তীর্থক্ষেত্রের চেহারা
প্রকল্পের অংশ হিসেবে মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ন, ভোগঘর নির্মাণ, ডাইনিং হল, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, আধুনিক আলোকসজ্জা, উন্নত শৌচাগার এবং পর্যটকবান্ধব বিভিন্ন পরিষেবা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হবে, যাতে পর্যটকদের যাতায়াতে কোনও অসুবিধা না হয়।
পর্যটনের পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি হোটেল, পরিবহণ, গাইড পরিষেবা, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও হস্তশিল্পের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে জেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নতুন উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের পর বাড়তে পারে কাজের গতি
তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের নতুন কমিটি গঠনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ প্রকল্প। তারাপীঠ-সহ বীরভূমের একাধিক ঐতিহাসিক সতীপীঠকে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিটে যুক্ত করে পরিকাঠামো উন্নয়ন, সৌন্দর্যায়ন এবং পর্যটক পরিষেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।











