অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী বোরসে শৈশবের আর্থিক সংগ্রাম ও বাবার চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন

অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী বোরসে এক সাক্ষাৎকারে তাঁর শৈশবের আর্থিক সংগ্রাম, বাবার চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা, পরিবারের প্রেরণা এবং মডেলিং থেকে চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন। বর্তমানে তিনি তাঁর নতুন ছবি ‘লেনিন’-এর জন্য আলোচনায় রয়েছেন।

ভারতীয় অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী বোরসে বর্তমানে তাঁর নতুন ছবি ‘লেনিন’-এর সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি শৈশব, আর্থিক সংগ্রাম এবং তাঁর বাবার কঠিন সময়ের স্মৃতি তুলে ধরেছেন।

২৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, তাঁর পরিবার অত্যন্ত সাধারণ আর্থিক পটভূমি থেকে এসেছে। ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, তাঁর বাবা-মা সংসারের প্রতিটি খরচ অত্যন্ত হিসাব করে পরিচালনা করতেন। তাঁর কথায়, জীবনের প্রাথমিক সংগ্রামই তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার এবং পরিবারের জন্য বড় কিছু করার প্রেরণা দিয়েছে।

ভাগ্যশ্রী বোরসের জন্ম মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে (বর্তমানে ছত্রপতি সম্ভাজীনগর)। শৈশবের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বছর তিনি নাইজেরিয়ার লাগোসে কাটিয়েছেন, যেখানে তাঁর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা হয় এবং তাঁর বাবা কর্মরত ছিলেন। পরে পরিবার ভারতে ফিরে আসে এবং তিনি মুম্বই থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ভাগ্যশ্রী জানান, তাঁর জন্মের সময়ই তাঁর বাবার চাকরি চলে গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারকে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, ছোটবেলায় অর্থের গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝতেন না, কিন্তু বড় হওয়ার পর উপলব্ধি করেন যে সীমিত সম্পদের মধ্যেই তাঁর বাবা-মা পুরো পরিবারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিনেত্রীর কথায়, তাঁদের বাড়িতে প্রতিটি ব্যয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা হতো। তিনি স্মরণ করেন, এমন পরিস্থিতি ছিল যখন ১০ টাকার কাঁচা লঙ্কা এবং ১০ টাকার পালং শাক কেনার হিসাবও রাখা হতো। এক সপ্তাহে নির্ধারিত বাজেটের বেশি খরচ হয়ে গেলে পরের সপ্তাহে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ত।

ভাগ্যশ্রীর মতে, এই পরিস্থিতিই তাঁকে পরিশ্রম এবং দায়িত্ববোধের গুরুত্ব শিখিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ভাগ্যশ্রী শৈশবের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, একদিন তিনি তাঁর বাবাকে কারও কাছে চাকরির অনুরোধ করতে শুনেছিলেন। তাঁর বাবার কথায় ছিল, “দয়া করে আমাকে একটি চাকরি দিন, আমার দুই মেয়ে আছে।”

ভাগ্যশ্রী বলেন, সে সময় তিনি ছোট ছিলেন, কিন্তু বাবাকে এভাবে অনুরোধ করতে দেখে তাঁর মনে গভীর প্রভাব পড়ে। সেদিনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বড় হয়ে তাঁর বাবা-মাকে আর কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেবেন না। তাঁর কথায়, আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা তাঁর বাবা-মা এবং তাঁর প্রতিটি সাফল্য তাঁদেরই উৎসর্গ করা।

ভাগ্যশ্রী বলেন, তাঁর এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, বরং পরিবারের জন্য আরও ভালো জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্য থেকেই এসেছে। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁর বাবা-মা কখনও হাল ছাড়েননি এবং সবসময় সন্তানদের ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সেই সংগ্রামই তাঁকে নিয়মিত পরিশ্রম করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

ভাগ্যশ্রী বোরসে মডেলিংয়ের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ২০২৩ সালে হিন্দি ছবি ‘ইয়ারিয়াঁ ২’-এর মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে তিনি ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এও অভিনয় করেন।

পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক বড় তারকার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। তাঁর অভিনীত ছবির মধ্যে রয়েছে ‘মিস্টার বচ্চন’, ‘কিংডম’, ‘কান্তা’, ‘আন্ধ্র কিং তালুকা’ এবং সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লেনিন’।

তেলুগু ছবি ‘মিস্টার বচ্চন’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের পর ভাগ্যশ্রী ব্যাপক পরিচিতি পান। এরপর তিনি একাধিক আলোচিত প্রকল্পে কাজ করেন এবং দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লেনিন’-এ তাঁর অভিনয়ও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া তাঁর আসন্ন তামিল ছবি ‘সেয়োন’ নিয়েও আলোচনা চলছে।

 

Leave a comment