আয়ের তুলনায় ৮০% বেশি সম্পত্তির সন্দেহ, বিহারে DPO রুবি কুমারীর চার ঠিকানায় EOU-এর তল্লাশি

বিহারে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে কিশনগঞ্জের জেলা কর্মসূচি আধিকারিক রুবি কুমারীর চারটি ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছে অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (EOU)। জমিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে।
আয়ের তুলনায় ৮০% বেশি সম্পত্তির সন্দেহ, বিহারে DPO রুবি কুমারীর চার ঠিকানায় EOU-এর তল্লাশি
Photo Credit / Attribution: Google

বিহারে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে বড়সড় অভিযান চালাল অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (EOU)। কিশনগঞ্জে কর্মরত জেলা কর্মসূচি আধিকারিক (DPO) রুবি কুমারীর চারটি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ জ্ঞাত আয়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তল্লাশির সময় বিহারে জমিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

তথ্য অনুযায়ী, রুবি কুমারী সমগ্র শিক্ষা অভিযানের অধীনে জেলা কর্মসূচি আধিকারিক পদে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ পায় অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি। তদন্তে তাঁর জ্ঞাত আয় ও সম্পত্তির মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরই তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

EOU-এর পৃথক দল রুবি কুমারীর সঙ্গে সম্পর্কিত চারটি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়। কিশনগঞ্জ ও কাটিহারে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলিতে পৌঁছে আধিকারিকরা সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড খতিয়ে দেখেন। তল্লাশির সময় জমিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু কাগজপত্রও সামনে আসে।

উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতে জমি কেনার জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি, সম্পত্তি কার নামে কেনা হয়েছে এবং প্রকৃত বিনিয়োগকারী কে, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রুবি কুমারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের রেকর্ডও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে রুবি কুমারীর সম্পত্তি তাঁর জ্ঞাত আয়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তল্লাশির পর সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য এবং আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত সম্পত্তির মোট পরিমাণ এখনও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই এই বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে।

EOU-এর এই অভিযানের পর শিক্ষা দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের সম্পত্তি এবং আয়ের উৎসের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা। রুবি কুমারী কীভাবে বৈধ আয়ের তুলনায় বেশি সম্পত্তি অর্জন করেছেন এবং এর জন্য কোন কোন আর্থিক উৎস ব্যবহার করা হয়েছে, তা নির্ধারণ করাই তদন্তের মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে চারটি ঠিকানায় তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। জমিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র সামনে আসার পর সম্পত্তির লেনদেন ও কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত তদন্তকারী আধিকারিকরা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তির রেকর্ড যাচাইয়ের ভিত্তিতে আগামী দিনে এই মামলায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

Leave a comment