লালমাটির বীরভূমে ইতিহাস-ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন! বছরভর ভক্তসমাগমে মুখর নলাটেশ্বরী সতীপীঠ

বীরভূমের নলহাটির নলাটেশ্বরী সতীপীঠে বছরভর ভক্তদের ভিড়। পুরাণ মতে এখানে পতিত হয়েছিল সতীর কণ্ঠনালী। জানুন মন্দিরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিশেষত্ব।

লালমাটির দেশ বীরভূম মানেই কালীসাধনা, তন্ত্র এবং শক্তিপীঠের রহস্যময় আবহ। সেই বীরভূমের বুকেই ছোট্ট একটি টিলার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন Nalateswari Temple। বছরভর এখানে ভিড় জমান হাজার হাজার ভক্ত ও পুণ্যার্থী। আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের পাশাপাশি এই মন্দির ঘিরে রয়েছে ইতিহাস, লোককথা এবং বাংলার ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধন।

লালমাটির বীরভূমে ইতিহাস-ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন! বছরভর ভক্তসমাগমে মুখর নলাটেশ্বরী সতীপীঠ
বীরভূমের অন্যতম জনপ্রিয় সতীপীঠ

পুরাণ মতে, দেবী সতীর কণ্ঠনালী এই স্থানে পতিত হয়েছিল। সেই থেকেই এখানে অধিষ্ঠান মা নলাটেশ্বরীর। দেবীকে ত্রিনয়নী ও কালিকা রূপে পুজো করা হয়। দেবীর নাম থেকেই এলাকার নাম হয়েছে নলহাটি। শক্তিসাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বহু বছর ধরেই পরিচিত এই মন্দির।

তান্ত্রিক সাধনার প্রাচীন ক্ষেত্র

বর্তমানে যে এলাকায় হাজার হাজার মানুষের ভিড়, একসময় সেই অঞ্চল ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। স্থানীয়দের মতে, বহু বছর আগে সাধারণ মানুষের যাতায়াত প্রায় ছিল না বললেই চলে। সেই সময় এই স্থান ছিল তান্ত্রিকদের সাধনক্ষেত্র। বিভিন্ন সময় দেশ-বিদেশের বহু সাধু-সন্ন্যাসী এখানে এসে সাধনা ও সিদ্ধিলাভ করেছেন বলে জানা যায়।

লালমাটির বীরভূমে ইতিহাস-ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন! বছরভর ভক্তসমাগমে মুখর নলাটেশ্বরী সতীপীঠ
রানি রাসমণির হাত ধরে বর্তমান রূপ

মন্দিরের সেবায়েতদের দাবি, এই মন্দিরের বর্তমান রূপ গড়ে ওঠে Rani Rashmoni-র উদ্যোগে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নত হলেও মূল আধ্যাত্মিক আবহ এখনও অটুট রয়েছে। হরিদ্বার ও কাশী থেকেও বহু সাধু এখানে এসে দীর্ঘদিন সাধনা করেছেন বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস।

প্রতিদিনের অন্নভোগে বিশেষ ঐতিহ্য

বছরের ৩৬৫ দিনই এখানে দেবীকে দুপুরে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। তবে কালীপুজোর সময় রাতে বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়। এই প্রাচীন রীতিনীতি আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। ভক্তদের অনেকেই মানত পূরণ করতে এখানে এসে বিশেষ পুজো দেন।

লালমাটির বীরভূমে ইতিহাস-ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন! বছরভর ভক্তসমাগমে মুখর নলাটেশ্বরী সতীপীঠ
ভক্তদের জন্য বাড়তি সুবিধা

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও ভিন রাজ্য থেকেও বহু মানুষ এখানে আসেন। অনেকে মায়ের সামনে বিয়ে, পৈতে বা অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানও সম্পন্ন করেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য আলাদা ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা, সাধু-সন্ন্যাসীদের থাকার জায়গা সহ একাধিক পরিষেবা চালু হয়েছে মন্দির চত্বরে।

বীরভূমের পাঁচ শক্তিপীঠের অন্যতম

লালমাটির দেশ Birbhum বহুদিন ধরেই শক্তিসাধনার অন্যতম পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। এই জেলাতেই ছড়িয়ে রয়েছে পাঁচটি প্রসিদ্ধ সতীপীঠ— Kankalitala Temple, Bakreshwar Temple, Nalateswari Temple, Nandikeshwari Temple এবং Fullara Temple। এর মধ্যে নলহাটির নলাটেশ্বরী মন্দির শুধু ধর্মীয় ভাবাবেগের কারণেই নয়, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রহস্যময় আবহের টানে সারা বছরই ভক্ত ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

লালমাটির বীরভূমে ইতিহাস-ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন! বছরভর ভক্তসমাগমে মুখর নলাটেশ্বরী সতীপীঠ
বীরভূমের নলহাটিতে অবস্থিত মা নলাটেশ্বরী মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় সতীপীঠ। পুরাণ মতে, এখানে সতীর কণ্ঠনালী পতিত হয়েছিল। তাই যুগ যুগ ধরে এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস, ইতিহাস ও তান্ত্রিক সাধনার ঐতিহ্য।

Leave a comment