বিস্তারকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার! ক্ষুব্ধ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য

বিস্তারকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার! ক্ষুব্ধ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য

বিজেপির বিস্তারক দ্বন্দ্ব:ভোট ঘোষণার আগেই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে শুরু হয়েছে অন্দরের টানাপোড়েন। সংগঠন শক্তিশালী করতে সব জেলায় বিস্তারক নিয়োগ করেছিল রাজ্য নেতৃত্ব। বাড়ি–পরিবার ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়ে মাসের পর মাস কাজ করলেও স্থানীয় নেতাদের অসহযোগিতা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বিস্তারকদের একাংশ। শুক্রবার সল্টলেকের পার্টি অফিসে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই বিষয় নিয়েই উত্তেজনা ছড়ায়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সহকারী সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক সতীশ ধন্দ। বৈঠকেই অসহযোগী নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা দেন শমীক।

অভিযোগ বিস্তারকদের—সহযোগিতা নেই, আচরণ অপমানজনক

বিস্তারকদের বক্তব্য, সংগঠন শক্তিশালী করতে তাঁরা নিজেদের পরিবার থেকে দূরে, অন্য জেলায় থেকে দিনরাত কাজ করছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জেলার নেতারা তাঁদের সঙ্গে স্বাভাবিক সহযোগিতাও করছেন না।কেউ কেউ অভিযোগ করেন—গোরু–ছাগলের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে তাঁদের সঙ্গে। এত অপমান সত্ত্বেও দলীয় সংগঠন গড়ার তাগিদে তাঁরা কাজ করে চলেছেন।

রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উত্তেজনা, বিস্তারকদের পাশে নেতৃত্ব

শুক্রবার সল্টলেক পার্টি অফিসে বিস্তারক ইনচার্জ ও বুথশক্তিকরণ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন শমীক ভট্টাচার্য ও সতীশ ধন্দ।বৈঠকের শুরুতেই বিস্তারকদের অসন্তোষ প্রকাশ পায়। জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতৃত্ব—কারও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ উঠে আসে একাধিকবার।

কড়া মন্তব্য সতীশ ধন্দের—‘গোরু-ছাগলের মতো আচরণ’

বৈঠকে সতীশ ধন্দ সরাসরি বলেন,বিস্তারকরা অভিযোগ করছেন, স্থানীয় নেতারা তাঁদের সঙ্গে গোরু-ছাগলের মতো ব্যবহার করছেন। জেলা সভাপতিরাও গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এটি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এই মন্তব্যের পরই বৈঠকে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

রাজ্য সভাপতির সতর্কবার্তা—‘বিস্তারকদের নিজের ছেলের মতো দেখুন’

শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বলেন—বিস্তারকরা দলের অমূল্য সম্পদ। তাঁদের অসম্মান বা দুর্ব্যবহার কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।তিনি বলেন, "জেলা সভাপতিদের সতর্ক করব। বিস্তারকদের নিজের বাড়ির ছেলের মতো ভাবতে হবে।"

রালেন শমীকঅতীত ঘটনা টেনে কড়া অবস্থান স্মরণ ক

বৈঠকে তিনি স্মরণ করান সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের কড়া অবস্থানের কথা—"সুব্রতবাবু তখন সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন—আর একজন বিস্তারক অভিযোগ করলেই সংশ্লিষ্ট জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হবে। সেই অবস্থান আবারও মনে করিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।"এই মন্তব্যে স্পষ্ট—আগামী দিনে অসহযোগী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।

রাজ্যে ভোটের আগে বিস্তারকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াল বিজেপির অন্দরমহলে। সংগঠন শক্তিশালী করতে অন্য জেলায় গিয়ে কাজ করলেও স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ বিস্তারকদের। এই নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

Leave a comment