নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। একদিকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি ঘিরে বিরোধীদের প্রতিবাদ, অন্যদিকে কংগ্রেসের অতীত ভূমিকা নিয়ে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল দাবি করেছেন, অতীতে কংগ্রেসের সরকার নির্বাচন কমিশনারদের বিভিন্ন পদ ও সম্মান দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। সেই অভিযোগ সামনে রেখেই রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ও আন্দোলনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির।
SIR বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ বিজেপির
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এবং SIR প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে মঙ্গলবার কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর নেতা রাজীব রঞ্জন সিং।গোয়েলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে কংগ্রেস দ্বিচারিতা করছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে নির্বাচন কমিশনাররা স্বাধীনভাবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক আন্দোলন ও বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি কংগ্রেসের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
টি এন শেষন থেকে এম এস গিল—কাদের নাম তুলে ধরল বিজেপি?
কংগ্রেসের অতীতের প্রসঙ্গ তুলে পীযূষ গোয়েল কয়েকজন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারের নাম উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সুযোগ ও সরকারি সম্মান দেওয়া হয়েছিল।
বিজেপির অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম—
টি এন শেষন: প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন শেষনের প্রসঙ্গ তুলে গোয়েল দাবি করেন, তাঁকে একসময় বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছিল।
এম এস গিল: প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এম এস গিলকে পদ্মবিভূষণ সম্মান দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন বিজেপির এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
আর কে ত্রিবেদী: ১৯৮৬ সালে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আর কে ত্রিবেদীকে গুজরাতের রাজ্যপাল করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন গোয়েল।
নবীন চাওলা: নবীন চাওলাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করার প্রসঙ্গেও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে এগুলি বিজেপির সাংবাদিক বৈঠকে উত্থাপিত রাজনৈতিক অভিযোগ ও ব্যাখ্যা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ, সম্মান প্রদান কিংবা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে পৃথক তথ্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কী বদলেছে? ২০২৩ সালের আইনের প্রসঙ্গ
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০২৩ সালের আইনটির কথাও উল্লেখ করেন পীযূষ গোয়েল। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য গঠিত নির্বাচনী কমিটিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতাও রয়েছেন।গোয়েলের দাবি, এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং আগের তুলনায় স্বচ্ছতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিকে তিনি বর্তমান ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেন।নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে এই আইন ও তার কার্যকারিতা অবশ্যই রাজনৈতিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়োগের প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ, তা বিচার করতে আইনের বিধান, নির্বাচনী কমিটির গঠন এবং বাস্তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি—সব দিকই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
‘জরুরি অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চান রাহুল গান্ধী’, কটাক্ষ বিজেপির
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধীর আন্দোলনের ধরন নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন বিজেপির নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, কংগ্রেস সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করতে চাইছে। রাহুল গান্ধী তাঁর ঠাকুমা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দেখানো পথে চলতে চান এবং জরুরি অবস্থার পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চান বলেও কটাক্ষ করেন তাঁরা।অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ এবং SIR নিয়ে আপত্তি রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করল বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল অভিযোগ করেছেন, অতীতে কংগ্রেসের আমলে একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে রাজনৈতিক পদ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কিংবা পদ্ম সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে টি এন শেষন, এম এস গিল, আর কে ত্রিবেদী এবং নবীন চাওলার নাম। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়েও বিরোধীদের সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।












