বিজেপি কৌশল: পশ্চিমবঙ্গ, কলকাতা থেকে জানানো হয়েছে, ২৬-এর ভোটের প্রচারের প্রস্তুতিতে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রচারে সরকারের দুর্নীতি ও অকার্যকর নীতিমালা নিয়ে আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। কোথায় এবং কখন: রাজ্যজুড়ে বুথস্তরে কর্মীদের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন: কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও রাজ্য নেতৃত্ব। কেন: ২০২১ সালের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কৌশলগত ও বিষয়ভিত্তিক প্রচার নিশ্চিত করতে।

ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবার প্রচার হবে বিষয়ভিত্তিক। ২০২১ সালের ভোটের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়ানো হবে। দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব সদস্যরা মনে করছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ নেতাদের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। এবার শুধু সরকারের দুর্নীতি, নীতিগত ব্যর্থতা ও জনসাধারণের সমস্যা তুলে ধরা হবে।
আরএসএস-বিজেপি বৈঠকে কৌশল প্রণয়ন
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশাল, সহকারী পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব ও বিপ্লব দেব। সঙ্গে ছিলেন আরএসএসের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বৈঠকে ভোট কৌশল, বুথস্তরে সংগঠন ও প্রচারের মূল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক বেহাল দশা প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, কয়লা, বালি, শিক্ষক নিয়োগ এবং সরকারি অর্থ তছরুপের ঘটনাগুলো প্রচারের মূল হাতিয়ার হবে। দলের দাবি, রাজ্যের অর্থনীতি ও প্রশাসন দুর্নীতির জালে আটকা পড়েছে। ভোটে সাধারণ মানুষকে সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির প্রভাব বোঝানোই লক্ষ্য।
বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে জোর
সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। বিজেপি এই বিষয়টিকে ভোট প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরবে। দলের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের নীরবতার কারণে অনুপ্রবেশ ঘটছে, যা কর্মসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলছে।
নারী নিরাপত্তা ও যুব মোর্চার ভূমিকা
নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহিলা ও যুব মোর্চাকে নিয়মিত রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি ভোট প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রচারে সরকারের দুর্নীতি ও নীতিগত ব্যর্থতিকে তুলে ধরা হবে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়ানো হবে। পাশাপাশি নারী নিরাপত্তা ও যুব মোর্চার কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।










