চা মানেই কি দুধ-চিনি দেওয়া লিকার চা? একেবারেই নয়। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে এখন নতুন ট্রেন্ড—অপরাজিতা ফুলের তৈরি ব্লু টি। পশ্চিমবঙ্গের নরেন্দ্রপুর কৃষি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও স্টেট এগ্রিকালচারাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা দেখিয়ে দিলেন কীভাবে কোনও রাসায়নিক ছাড়াই তৈরি করা যায় খাঁটি ব্লু টি।
অপরাজিতা ফুলেই তৈরি আসল ব্লু টি
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাঁটি ব্লু টি তৈরিতে চায়ের পাতা নয়, ব্যবহার করা হয় শুধু অপরাজিতা ফুলের পাপড়ি। কোনও রং, ফ্লেভার বা কৃত্রিম উপাদান মেশানো হয় না। ফলে বাজারে পাওয়া অনেক ব্লু টির তুলনায় এটি অনেক বেশি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক।
কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
অপরাজিতা ফুলের সংগঠিত চাষ এখনও খুব বেশি হয় না। তবে গবেষকদের মতে, যদি বাগান করে এই ফুল চাষ করা যায়, তাহলে তা শুকিয়ে চায়ের মতো পাতা বানিয়ে বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। এতে চা প্রেমীদের পাশাপাশি কৃষকদেরও বাড়তি রোজগারের রাস্তা খুলবে।
ব্লু টি তৈরির প্রাকৃতিক পদ্ধতি
সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি হল সূর্যের আলোয় শুকানো। তাজা অপরাজিতা ফুল একটি পরিষ্কার পাত্রে রেখে জাল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, যাতে ধুলো বা পোকামাকড় না ঢোকে।পাঁচ থেকে সাত দিন প্রতিদিন প্রায় দু’ঘণ্টা করে রোদে রাখলে ফুলের পাপড়ি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাবে। এরপর সেগুলি গুঁড়ো করলেই তৈরি হবে ব্লু টি পাতা।
ল্যাবরেটরির বিকল্প পদ্ধতি
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চাইলে হট এয়ার ওভেনে ৫০–৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় শুকিয়েও নেওয়া যায়। তবে এই পদ্ধতিতে অনেক সময় ফুলের স্বাভাবিক সুবাস কিছুটা কমে যায়। সূর্যের আলোয় শুকালে সেই সমস্যা থাকে না।
বাজারের ব্লু টি নিয়ে সতর্কতা
বাজারে যে ব্লু টি বিক্রি হয়, তার অনেক ক্ষেত্রেই স্বাদ ও রং বাড়াতে কৃত্রিম উপাদান মেশানো থাকে। গবেষকদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা—খাঁটি ব্লু টি চাইলে নিজে তৈরি করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। এই চা মধু দিয়ে পান করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধা
অপরাজিতা ফুলের ব্লু টিতে বড় কোনও ঝুঁকি নেই বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত খেলে শরীরের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে না। তাই কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই বাড়িতে এই ব্লু টি বানাতে পারেন।
সাধারণ লিকার চা নয়, এবার কাপে থাকুক অপরাজিতা ফুলের তৈরি ব্লু টি। নরেন্দ্রপুর কৃষি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের দেখানো সহজ পদ্ধতিতে বাড়িতেই বানানো যায় এই প্রাকৃতিক নীল চা। রাসায়নিকমুক্ত, স্বাস্থ্যকর এবং কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করছে এই ব্লু টি।













