ব্রহ্মকমলের অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ উত্তর ২৪ পরগনা! রাত নামলেই ফুটছে বিরল ফুল, ভোরের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে মায়াবী দৃশ্য

হিমালয়ের বিরল ব্রহ্মকমল এখন উত্তর ২৪ পরগনার সমতল এলাকাতেও ফুটছে। সূর্য ডোবার পর পাপড়ি মেলে গভীর রাতে পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয়ে ভোরের আগেই ঝরে পড়ে এই ফুল।

যে ফুল দেখতে একসময় পাহাড়ি পথে পাড়ি দিতে হত, সেই ব্রহ্মকমলই এখন ফুটছে বাংলার সমতলে। উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকার ফুলপ্রেমীদের বাগানে দেখা যাচ্ছে এই দুষ্প্রাপ্য ফুল। দিনের আলোয় সাধারণ কুঁড়ির মতো থাকলেও সূর্য অস্ত যাওয়ার পর শুরু হয় তার রূপ বদলের পালা। রাত যত গভীর হয়, ততই মেলে পাপড়ি। আর ভোরের আলো ফোটার আগেই শেষ হয়ে যায় সেই মায়াবী সৌন্দর্য।

হিমালয়ের ফুল এবার বাংলার সমতলে

ফুল ফোটার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে বিশেষ উৎসাহ। অনেকেই রাতের বেলায় এই বিরল ফুলের সৌন্দর্য দেখতে ছুটে যাচ্ছেন।

সূর্য ডুবলেই শুরু হয় পাপড়ি মেলা

ব্রহ্মকমলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল এর প্রস্ফুটনের সময়। দিনের বেশিরভাগ সময় ফুলটি কুঁড়ি অবস্থায় থাকে। সন্ধ্যা নামার পর ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করে পাপড়ি। গভীর রাতে ফুলটি সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হলে তার বড় সাদা পাপড়ি এবং মৃদু সুগন্ধ নজর কাড়ে সকলের।তবে এই সৌন্দর্য দীর্ঘস্থায়ী নয়। ভোর হওয়ার আগেই ফুলটি ঝরে পড়ে। ফলে একটি ব্রহ্মকমল ফোটার দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া যায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য। এই কারণেই রাতের বেলায় ফুল ফুটতে দেখার জন্য অনেকের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

কীভাবে সমতলেও ফুটছে ব্রহ্মকমল?

উদ্যানপ্রেমীদের মতে, সঠিক পরিচর্যা এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারলে সমতল এলাকাতেও ব্রহ্মকমল ফোটানো সম্ভব। ভালো জলনিকাশি ব্যবস্থা, সরাসরি তীব্র রোদ এড়িয়ে ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত সেচ—এই বিষয়গুলির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।বর্ষাকালের আর্দ্র পরিবেশও এই গাছের বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যানপ্রেমীরা। ফলে পাহাড়ের বাইরে সমতল বাংলাতেও ধীরে ধীরে এই ফুলের দেখা মিলছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস আর উদ্ভিদবিদ্যার ব্যাখ্যা

ব্রহ্মকমলকে ঘিরে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস রয়েছে। অনেকের কাছে এই ফুল শুভ ও পবিত্রতার প্রতীক। ফুলটি রাতে ফুটে অল্প সময়ের মধ্যেই ঝরে পড়ায় এর সঙ্গে নানা লোকবিশ্বাসও জড়িয়ে রয়েছে।তবে উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাতে প্রস্ফুটিত হওয়া এই ফুলের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ এর নিশাচর প্রস্ফুটন কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং উদ্ভিদের নিজস্ব প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যেরই অংশ।

রাতের ফুল দেখতে বাড়ছে উৎসাহ

উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ব্রহ্মকমল ফোটার খবর ছড়িয়ে পড়ায় ফুলপ্রেমীদের আগ্রহও বাড়ছে। রাতের নীরবতায় কয়েক ঘণ্টার জন্য ফুটে থাকা এই সাদা ফুল এখন স্থানীয় উদ্যানপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

হিমালয় অঞ্চলের বিরল ফুল হিসেবে পরিচিত ব্রহ্মকমল এখন দেখা মিলছে উত্তর ২৪ পরগনার সমতল এলাকাতেও। হাবড়া, অশোকনগর, গোবরডাঙা ও বারাসাতের একাধিক ফুলপ্রেমীর বাড়ির বাগানে ফুটছে এই নিশাচর ফুল। সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে পাপড়ি মেলে গভীর রাতে পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয় ব্রহ্মকমল। তবে ভোর হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে ফুলটি।

 

Leave a comment