বিশ্বজুড়ে ক্যানসারের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর ভারতের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার এখন অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (ICMR)-এর সমীক্ষা জানাচ্ছে, প্রতি বছর প্রায় ৫.৬ শতাংশ হারে স্তন ক্যানসারের কেস বাড়ছে। জীবনযাত্রার একাধিক অভ্যাস এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে।

ভারতে কত দ্রুত বাড়ছে স্তন ক্যানসার?
ICMR-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার নতুন স্তন ক্যানসারের কেস যুক্ত হচ্ছে। ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩ লক্ষ মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ভারতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২.২১ লক্ষ। একই বছরে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬.৭ লক্ষ মানুষ স্তন ক্যানসারে প্রাণ হারান।
খাদ্যাভ্যাস ও ঘুম: নীরব বিপদ
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত আমিষভিত্তিক খাদ্য গ্রহণ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে শহুরে জীবনে রাতজাগা ও ফাস্ট ফুড নির্ভরতা এই রোগের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

স্থূলতা কেন বড় ঝুঁকির কারণ?
অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা স্তন ক্যানসারের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব মহিলাদের BMI বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি।
কোন মহিলাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি?
সমীক্ষা অনুযায়ী, দেরিতে বিয়ে করা মহিলাদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি, যেসব মহিলা দু’টির বেশি গর্ভপাত করিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি গর্ভপাত না করা মহিলাদের তুলনায় প্রায় ১.৬৮ গুণ বেশি। তবে স্তন্যপান করানো বা মৌখিক গর্ভনিরোধক ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি কোনও জোরালো সম্পর্ক এখনও প্রমাণিত হয়নি।

এই লক্ষণগুলি অবহেলা করবেন না
স্তনে বা বগলে নতুন কোনও পিণ্ড অনুভব করা, স্তনের ত্বকে ফোলাভাব বা গর্তের মতো পরিবর্তন, স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক তরল নির্গমন, স্তনের রঙ বা আকারে পরিবর্তন—এই লক্ষণগুলি স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

ভারতে দ্রুত হারে বাড়ছে স্তন ক্যানসারের ঘটনা। ICMR-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত ঘুম, স্থূলতা ও কিছু জীবনযাত্রার সিদ্ধান্ত ভারতীয় মহিলাদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছে।








