বাজেট ২০২৬–২৭ এ AI ক্লাউড ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে সরকারের জোর

২০২৬–২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে সরকার AI, ক্লাউড পরিষেবা, ডেটা সেন্টার ইকোসিস্টেম, ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ও সাইবার নিরাপত্তাকে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে।

২০২৬–২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্লাউড পরিষেবা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে। ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং, ডেটা পরিষেবা এবং সাইবার নিরাপত্তার উপর জোর দিয়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতের আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন দিল্লিতে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, AI অবকাঠামো, ক্লাউড পরিষেবা এবং ডেটা সেন্টার ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে AI-ভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে পরিষেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ও সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ডিজিটাল ভারতের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভিত্তি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

বাজেটে AI অবকাঠামো, ক্লাউড পরিষেবা এবং ডেটা সেন্টার ইকোসিস্টেমের সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, AI-ভিত্তিক প্রযুক্তি স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিক্ষা খাতে পরিষেবার গতি বাড়াতে এবং সেগুলিকে আরও সাশ্রয়ী করতে সহায়ক হতে পারে। এই লক্ষ্যে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার জোরদার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিংকে উৎসাহিত করে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ক্লাউড পরিষেবার ক্ষেত্রে কর ছাড় এবং IT পরিষেবার জন্য স্পষ্ট ও সুরক্ষিত নিয়মাবলির প্রস্তাব কোম্পানি ও স্টার্টআপগুলির জন্য সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইন্যান্স, লজিস্টিক্স, হেলথকেয়ার, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে AI ও ডেটা-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

এগ্রিস্ট্যাককে AI-এর সঙ্গে যুক্ত করা, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মেডিক্যাল ভ্যালু ট্যুরিজম হাব গঠনের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ডিজিটাল সম্প্রসারণের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাকে বাজেটের একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কুইক হিল টেকনোলজিসের সিএমডি ড. কৈলাস কাটকারের মতে, AI ও ডিজিটাল পরিষেবার ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ডেটা ও ডিজিটাল পরিচয়ের সুরক্ষা আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সিকু্রাইটের জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. সঞ্জয় কাটকার জানান, ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার ইকোসিস্টেমের সম্প্রসারণের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা এখন আর বিকল্প নয়, বরং একটি অপরিহার্য প্রয়োজন। সরকারের স্কিলিং প্রোগ্রাম এবং ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণের প্রেক্ষিতে আত্মনির্ভর সাইবার নিরাপত্তা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

 

Leave a comment