জানুয়ারি ২০২৬-এ FPIs ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে ৩৫,৯৬২ কোটি টাকা প্রত্যাহার

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বাজেট ২০২৬–২৭-এ F&O সেগমেন্টে STT বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জানুয়ারি ২০২৬ মাসে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে ৩৫,৯৬২ কোটি টাকা প্রত্যাহার করেছে।

জানুয়ারি ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও ঘরোয়া নীতিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPIs) ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে ৩৫,৯৬২ কোটি টাকা (প্রায় ৩.৯৭ বিলিয়ন ডলার) প্রত্যাহার করেছে। ২০২৫ সালেও FPIs ভারতীয় বাজার থেকে মোট ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা (১৮.৯ বিলিয়ন ডলার) প্রত্যাহার করেছিল।

বাজার অংশগ্রহণকারীদের মতে, বৈদেশিক পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারিতে এই প্রত্যাহার এমন সময়ে হয়েছে, যখন ঘরোয়া বাজারে কিছু বড় সেক্টর ও ব্যাংকিং শেয়ারে উল্লেখযোগ্য র‍্যালি দেখা গিয়েছিল।

ফিউচার্স ও অপশনস সেগমেন্টে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স বৃদ্ধি

ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬–২৭-এ ফিউচার্স ও অপশনস (F&O) সেগমেন্টে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ ফিউচার্স লেনদেনে STT ০.০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। অপশনস প্রিমিয়াম ও এক্সারসাইজ লেনদেনে STT যথাক্রমে ০.১০ শতাংশ ও ০.১২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চয়েস ইক্যুইটি ব্রোকিং-এর টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট আকাশ শাহ জানান, STT বৃদ্ধির ফলে ডেরিভেটিভ-কেন্দ্রিক FPIs-এর জন্য বিনিয়োগ ব্যয় বাড়বে। তিনি বলেন, STT বাড়লে কর আদায় বাড়তে পারে, তবে ট্রেডিং ভলিউম কমতে পারে, যার প্রভাব FPIs-এর কৌশলগত অংশগ্রহণে পড়তে পারে এবং স্বল্পমেয়াদে বিদেশি বিনিয়োগ ধীর হতে পারে। তার মতে, টেকসই FPI প্রবাহের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা কেবল বৃদ্ধির সম্ভাবনা নয়, বরং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, রুপির গতিবিধি ও কর নীতির ধারাবাহিকতার দিকে নজর দেবে।

বৈশ্বিক কারণ ও FPI প্রত্যাহার

এঞ্জেল ওয়ানের সিনিয়র অ্যানালিস্ট ওয়াকারজাভেদ খান জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাণিজ্য উত্তেজনা, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বিরোধ এবং শুল্কসংক্রান্ত হুমকির কারণে FPIs ঝুঁকি কমানোর পথ বেছে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী ডলার, উচ্চ বন্ড ইয়িল্ড, ডলারপ্রতি ৯০–৯২ রুপির স্তরে রুপির অবস্থান এবং ভারতীয় বাজারে উচ্চ মূল্যায়নও প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

মর্নিংস্টার ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ ইন্ডিয়ার প্রধান হিমাংশু শ্রীবাস্তব বলেন, উন্নত বাজারে উচ্চ সুদের হার, শক্তিশালী ডলার এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা উদীয়মান বাজারে ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

ঘরোয়া বাজারে বাজেটের প্রভাব

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার প্রভাব ঘরোয়া বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে। বাজেট ২০২৬–২৭-এ F&O সেগমেন্টে STT বৃদ্ধি, সরকারি ব্যাংকিং খাতে নতুন নীতি এবং ডিসইনভেস্টমেন্ট পরিকল্পনা বাজারের মনোভাবের উপর প্রভাব ফেলছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

বাজার অংশগ্রহণকারীদের মতে, ভবিষ্যতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে FPIs কোম্পানির ফলাফল, মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা এবং কর নীতির ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেবে।

Leave a comment