Budget 2026 যত এগিয়ে আসছে, ততই সোনা ও গয়না শিল্পে প্রত্যাশার পারদ চড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার উচ্চমূল্য এবং দেশীয় চাহিদার চাপের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে শিল্পমহল ও সাধারণ ক্রেতা—উভয়ই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটে কয়েকটি নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে সোনা কেনা যেমন সহজ হবে, তেমনই শিল্পের গতি ফিরতে পারে।
Budget 2026: কোন কোন সিদ্ধান্তে বদলাতে পারে সোনার বাজার?
আমদানি শুল্ক কমলে কমতে পারে সোনার দাম
গয়না শিল্পের অন্যতম প্রধান দাবি হল সোনা, রুপো ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর উপর আমদানি শুল্ক কমানো। ভারত এই কাঁচামালের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল। শুল্ক হ্রাস পেলে উৎপাদন খরচ কমবে, যার প্রভাব সরাসরি খুচরো বাজারে পড়তে পারে।
কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি
দীর্ঘ শুল্ক ছাড়পত্র ও জটিল কাগজপত্র রফতানির পথে বড় বাধা। বাজেটে যদি দ্রুত ক্লিয়ারেন্স, ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন ও ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শনের উপর জোর দেওয়া হয়, তবে লজিস্টিক খরচ কমবে এবং ভারতীয় গয়না বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
গয়নার জিএসটি কমার সম্ভাবনা
বর্তমানে গয়নার উপর ৩ শতাংশ জিএসটি রয়েছে। শিল্পমহলের দাবি, এই হার কমিয়ে ১–১.২৫ শতাংশ করা হলে আনুষ্ঠানিক কেনাকাটা বাড়বে। উচ্চ দামের কারণে যাঁরা সোনা কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের কাছে এটি বড় স্বস্তি হতে পারে।
ইএমআই-এ সোনা কেনার পথ খুলতে পারে
Budget 2026-এ নিয়ন্ত্রিত ইএমআই ব্যবস্থায় সোনা কেনার সুযোগ চালুর দাবি উঠেছে। এতে অল্প অল্প করে মূল্য পরিশোধ করে গয়না কেনা সম্ভব হবে, যা মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় সুবিধা।
ঘরে থাকা পুরনো সোনা বাজারে আনতে উদ্যোগ
ভারতীয় পরিবারের হাতে বিপুল পরিমাণ সোনা রয়েছে, যার বড় অংশই ব্যবহৃত হয় না। পুরনো সোনা বিনিময় ও রিসাইক্লিং নীতিতে সংস্কার হলে সেই সোনা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আসতে পারে, আমদানির উপর চাপও কমবে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে জোর
গয়না শিল্পে দক্ষ কারিগরের অভাব বড় সমস্যা। বাজেটে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ও আধুনিক প্রযুক্তিতে ইনসেনটিভ দেওয়া হলে উৎপাদনশীলতা ও মান—দুটিই বাড়বে।
বিদেশি পর্যটকদের জন্য জিএসটি রিফান্ড স্কিম
প্রধান বিমানবন্দরগুলিতে পর্যটক জিএসটি রিফান্ড স্কিম চালু হলে বিদেশি পর্যটকরা ভারতে গয়না কিনে কর ফেরত পেতে পারেন। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে ভারত আরও আকর্ষণীয় গয়নার বাজার হয়ে উঠবে।
২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে গয়না ও রত্ন শিল্পের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আমদানি শুল্ক হ্রাস, জিএসটি কমানো, ইএমআই সুবিধা ও পুরনো সোনা ব্যবহারের নীতিগত সংস্কার হলে সাধারণ মানুষের কাছে সোনা কেনা আরও সাশ্রয়ী ও সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।













