বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর একে একে সামনে আসছে সেই মুহূর্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডিজিসিএ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, অবতরণের ঠিক আগে পাইলট বারবার জানিয়েছিলেন যে রানওয়ে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে না। এরপরই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যার তদন্ত শুরু করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)।
বারামতী বিমান দুর্ঘটনা: কী জানা গেল মুহূর্তে মুহূর্তে? অ্যাপ্রোচ ক্লিয়ারেন্সের পর শুরু জটিলতা
পুনে অ্যাপ্রোচ থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বারামতী থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকাকালীন বিমানটি আবার রেডিও যোগাযোগ করে। সেই সময় ক্রুদের ভিজ্যুয়াল মেটিওরোলজিক্যাল কন্ডিশনস (VMC) অনুযায়ী নামার অনুমতি দেওয়া হয়।
দৃশ্যমানতা নিয়ে পাইলটদের প্রশ্ন
এর কিছুক্ষণ পর পাইলটরা বাতাসের গতি ও দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চান। এটিসি জানায়, বাতাস শান্ত এবং দৃশ্যমানতা প্রায় ৩,০০০ মিটার। এরপর বিমানটি জানায় যে তারা রানওয়ে ১১-তে ফাইনাল অ্যাপ্রোচে রয়েছে, কিন্তু রানওয়ে চোখে পড়ছে না।
প্রথম গো-অ্যারাউন্ডের সিদ্ধান্ত
রানওয়ে স্পষ্ট না হওয়ায় প্রথম অ্যাপ্রোচেই ক্রুরা গো-অ্যারাউন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আবারও রানওয়ে ১১-র ফাইনাল অ্যাপ্রোচে যাওয়ার কথা জানান তারা।
‘এই মুহূর্তে রানওয়ে চোখে পড়ছে না’
এটিসি পক্ষ থেকে রানওয়ে দেখা গেলে জানাতে বলা হয়। তখন পাইলটদের কণ্ঠে শোনা যায়,
কয়েক সেকেন্ড পর তারা জানান যে রানওয়ের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল কন্ট্যাক্ট হয়েছে।
অবতরণের অনুমতি ও রহস্যজনক নীরবতা
সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে (IST) বিমানটিকে রানওয়ে ১১-তে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ক্লিয়ারেন্সের কোনও রিডব্যাক ক্রুরা দেননি।
এক মিনিটের মধ্যেই দুর্ঘটনা
সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে এয়ারফিল্ডে থাকা কর্মীরা রানওয়ে ১১-র থ্রেশহোল্ডের কাছে আগুনের শিখা দেখতে পান। দ্রুত জরুরি পরিষেবা পাঠানো হলেও রানওয়ের বাম দিকে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়।
বারামতীর টেবিলটপ রানওয়েতে অবতরণের সময় চার্টার্ড বিমানের দুর্ঘটনার আগে পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মধ্যে হওয়া কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে অসামরিক বিমান মন্ত্রক। ‘রানওয়ে চোখে পড়ছে না’—এই বার্তাই দুর্ঘটনার আগে পাইলটের শেষ গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বলে জানা গিয়েছে।











