Ajit Pawar Political Journey: আঁখের কো-অপারেটিভ থেকে উপ মুখ্যমন্ত্রী—কাকা শরদের ছায়া ছেড়ে ‘দাদা’ অজিতের ক্ষমতার উত্থান

Ajit Pawar Political Journey: আঁখের কো-অপারেটিভ থেকে উপ মুখ্যমন্ত্রী—কাকা শরদের ছায়া ছেড়ে ‘দাদা’ অজিতের ক্ষমতার উত্থান

মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে এমন কিছু নেতা রয়েছেন, যাঁরা ক্ষমতার কেন্দ্র বদলালেও নিজের অবস্থান ধরে রাখেন। অজিত পওয়ার তেমনই এক নাম। বারামতীর তৃণমূল রাজনীতি থেকে শুরু করে রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দ—দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু ‘শরদ পওয়ারের ভাইপো’ নন, বরং নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়ানো এক প্রভাবশালী নেতা।

Ajit Pawar Political Journey: ধাপে ধাপে উত্থান বারামতী ও আঁখ কো-অপারেটিভ: রাজনীতির হাতেখড়ি

পশ্চিম মহারাষ্ট্রের আঁখ উৎপাদন অঞ্চল বারামতীই ছিল অজিত পওয়ারের রাজনৈতিক পাঠশালা। ১৯৮২ সালে আঁখ কো-অপারেটিভ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে প্রবেশ। এই কো-অপারেটিভ নেটওয়ার্ক তাঁকে গ্রামস্তর থেকে জেলা রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব

১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই জন্ম অজিত অন্তরাও পওয়ারের। বাবা অন্তরাও পওয়ার ছিলেন শরদ পওয়ারের বড় ভাই। কাকা শরদ পওয়ারকে রাজ্যের এবং পরে জাতীয় স্তরের নেতা হয়ে উঠতে কাছ থেকে দেখেছেন অজিত। রাজনীতিতে তাঁর আগমন অনেকটাই এই পারিবারিক প্রভাবেই।

ব্যাংক থেকে বিধানসভা—ক্ষমতার ভিত মজবুত করা

১৯৯১ সালে পুনে জেলা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হন অজিত। এর কিছুদিন পরেই বারামতী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে নামেন। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বারামতী হয়ে ওঠে তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্ট্রংহোল্ড।

উপ মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ও স্বাধীন সাম্রাজ্য

বিভিন্ন সরকারের আমলে একাধিকবার উপ মুখ্যমন্ত্রী হন অজিত পওয়ার। ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে থেকেও এই পদে টিকে থাকা তাঁকে মহারাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময়ের উপ মুখ্যমন্ত্রী করে তোলে। বিশেষ করে পশ্চিম মহারাষ্ট্রে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব রাজনৈতিক বলয়।

পরিবারের অন্দরে ফাটল

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুপ্রিয়া সুলে ও রোহিত পওয়ারের মতো নতুন প্রজন্মের নেতাদের উত্থান ঘটে। এতে এনসিপি পরিবারের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে শুরু করে, যা অজিত ও শরদ পওয়ারের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে।

২০১৯: ৮০ ঘণ্টার সরকার ও প্রথম বড় বিদ্রোহ

২০১৯ সালের নভেম্বরে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গড়ে অজিত পওয়ার রাজনৈতিক মহলে চমক দেন। তবে সেই সরকার টেকে মাত্র ৮০ ঘণ্টা। এই ঘটনাই এনসিপি পরিবারের প্রথম প্রকাশ্য ভাঙনের ইঙ্গিত দেয়।

২০২৩: চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ও নতুন অধ্যায়

২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেন অজিত পওয়ার, সঙ্গে নেন এনসিপির একাংশ বিধায়ককে। উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। এর ফলে এনসিপি কার্যত বিভক্ত হয় এবং নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতিও পায় তাঁর গোষ্ঠী।

শেষ রাজনীতি ও অসমাপ্ত পরিকল্পনা

পুর নির্বাচনের আগে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল বলে গুঞ্জন ওঠে। এককভাবে লড়ে পুণে পুর নির্বাচনে পরাজয় হয়। জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে বারামতী থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেই থেমে যায় তাঁর ৬৬ বছরের জীবনের যাত্রা।

বারামতীর আঁখ-নির্ভর কো-অপারেটিভ রাজনীতি থেকে শুরু করে একাধিকবার মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি—অজিত পওয়ারের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল ক্ষমতা, পরিবার ও সংঘাতের গল্প। কাকা শরদ পওয়ারের ছায়া থেকে বেরিয়ে কীভাবে নিজস্ব রাজনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন অজিত, তারই পূর্ণাঙ্গ চিত্র।

Leave a comment