জন্মনিয়ন্ত্রণ মানেই প্রতিদিন বড়ি খাওয়া, নিয়মিত ইনজেকশন বা আইইউডি বসানোর ঝামেলা—এই ধারণা বদলাতে চলেছে চিকিৎসাবিজ্ঞান। বাহুতে ত্বকের নিচে বসানো একটি ক্ষুদ্র ইমপ্লান্টই তিন বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ রোধ করতে পারে। মহারাষ্ট্রে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই আধুনিক পদ্ধতি ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে।
Prevent Pregnancy: নতুন পদ্ধতির বিস্তারিত সাবডার্মাল ইমপ্লান্ট কী?
এই জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নাম সাবডার্মাল কনট্রাসেপটিভ ইমপ্লান্ট। দেখতে প্রায় দেশলাই কাঠির মতো ছোট। এটি কনুইয়ের কাছাকাছি বাহুর ত্বকের ঠিক নিচে বসানো হয়। জরায়ুর ভিতরে কিছু প্রবেশ করাতে হয় না, ফলে অস্বস্তি বা সংক্রমণের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম।
কীভাবে কাজ করে এই ইমপ্লান্ট?
ইমপ্লান্টটি ধীরে ধীরে শরীরে প্রোজেস্টিন হরমোন নিঃসরণ করে।
এই হরমোন—
ডিম্বাণু তৈরি হওয়া বন্ধ করে
শুক্রাণুর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে
ফলে নিষেক সম্ভব হয় না। একবার বসানো হলে টানা তিন বছর পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রয়োজন পড়ে না।
কারা এই পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন?
যেসব মহিলারা—
গর্ভনিরোধক বড়িতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভোগেন
আইইউডি ব্যবহারে অস্বস্তি অনুভব করেন
দীর্ঘমেয়াদি কিন্তু রিভার্সিবল জন্মনিয়ন্ত্রণ চান
তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি বিশেষভাবে উপযোগী বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন।
ইমপ্লান্ট অপসারণের পরে কি সন্তান ধারণ সম্ভব?
হ্যাঁ। এটি সম্পূর্ণ রিভার্সিবল পদ্ধতি।
ডাক্তার চাইলে যে কোনও সময় ইমপ্লান্টটি অপসারণ করতে পারেন। সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরে আসে। ভবিষ্যতে গর্ভধারণে কোনও স্থায়ী প্রভাব পড়ে না।
কোথায় মিলছে এই পরিষেবা?
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় আপাতত মহারাষ্ট্রের—
জেলা হাসপাতাল
মেডিক্যাল কলেজ
নির্বাচিত উচ্চতর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
এই পরিষেবা চালু হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে মুম্বই, পুণে-সহ বড় শহরের সরকারি হাসপাতালগুলিতেও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।
জন্মনিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে সাবডার্মাল ইমপ্লান্ট। বাহুর ত্বকের নিচে একটি ছোট কাঠির মতো ডিভাইস বসালেই টানা তিন বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ রোধ সম্ভব। মহারাষ্ট্রে শুরু হয়েছে এই অত্যাধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।













