কার্বোহাইড্রেট কমালেই কি ঝরঝর করে ওজন কমে? এই ভুল করলে উল্টো বাড়তে পারে বিপদ, কীভাবে খাবেন জানালেন বিশেষজ্ঞ

ওজন কমাতে গিয়ে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিচ্ছেন? জানুন কেন এই সিদ্ধান্ত ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কীভাবে কার্বোহাইড্রেট খেলে মিলবে দ্বিগুণ উপকার।

ডায়েট মানেই ভাত-রুটি ছাঁটাই—এই ধারণা বহুদিন ধরেই প্রচলিত। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে জিমের কথাবার্তা, সর্বত্রই শোনা যায় “কার্ব ছাড়লেই ওজন কমবে।” কিন্তু সত্যিই কি কার্বোহাইড্রেট কমালেই হুড়মুড়িয়ে কমে ওজন? নাকি এই অভ্যাস শরীরের ভিতরে তৈরি করছে আরও বড় বিপাকীয় সমস্যা?

কার্বোহাইড্রেট: শত্রু নয়, শক্তির প্রধান উৎস

কার্বোহাইড্রেট শরীরের সবচেয়ে কার্যকর শক্তির উৎস। মস্তিষ্কের কাজ, পেশির শক্তি, হরমোনের ভারসাম্য—সব কিছুর জন্যই কার্বোহাইড্রেট অপরিহার্য। দীর্ঘদিন কার্বোহাইড্রেট কম খেলে ক্লান্তি, মাথা ঝিমুনি, মনোযোগের অভাব এবং হরমোনাল সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট কোথায় সমস্যা তৈরি করে?

সমস্যা কার্বোহাইড্রেটে নয়, বরং অতিরিক্ত ও ভুল ধরনের কার্বোহাইড্রেটে। শুধু চিনি বা ময়দা নয়—ভাত, রুটি বা শস্যজাত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই ইনসুলিন লিভারে কোলেস্টেরল তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে, ফলে ওজন ও কোলেস্টেরল—দুটোই বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

কার্ব কমিয়ে কেন ওজন কমে না অনেক সময়?

হঠাৎ কার্বোহাইড্রেট কমালে শরীর প্রথমে জল ঝরিয়ে ওজন কমায়। কিন্তু তা স্থায়ী নয়। কিছুদিন পর শরীর শক্তি সঞ্চয়ের মোডে চলে যায়, মেটাবলিজম ধীর হয়ে পড়ে। ফলাফল—ওজন কমা থেমে যাওয়া বা উল্টো ওজন বেড়ে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞের মত: ‘পরিমাণ নয়, গুণমানই আসল’

স্বাস্থ্য ও সুস্থতা প্রশিক্ষক গুরপ্রীত গ্রোভার জানিয়েছেন, কার্বোহাইড্রেটকে অযথা দোষারোপ করা হয়। তাঁর মতে, ওজন বাড়ার মূল কারণ খাবারের ভুল সংমিশ্রণ। গোটা শস্য, ডাল, ফল এবং শ্বেতসারযুক্ত সবজি থেকে পাওয়া কার্বোহাইড্রেট শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে।

সঠিক কার্বোহাইড্রেট কীভাবে খাবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—

প্লেটের অর্ধেক রাখুন সবজি

এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন

বাকি এক-চতুর্থাংশ জটিল কার্বোহাইড্রেট

এই ভারসাম্য বজায় রাখলে খাবারের এক ঘণ্টা পরেও ঘুম ঘুম ভাব আসে না, বরং শক্তি ও মনোযোগ বাড়ে।

কার্বোহাইড্রেট পুরো বাদ দিলে কী ক্ষতি হতে পারে?

দীর্ঘদিন কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চললে কোষ্ঠকাঠিন্য, হরমোনের সমস্যা, অনিয়মিত পিরিয়ড, থাইরয়েডের গোলমাল এবং মানসিক অবসাদ পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। তাই ‘নো-কার্ব ডায়েট’ শুরু করার আগে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওজন কমানোর তাড়াহুড়োয় অনেকেই প্রথমেই কার্বোহাইড্রেট বাদ দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ নয়, বরং সঠিক উৎস ও সঠিক সংমিশ্রণেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ ওজন কমানোর আসল চাবিকাঠি।

Leave a comment