দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য আয়ুর্বেদ গুরুকুলম একটি নতুন শিক্ষাগত ও পেশাগত পথ হিসেবে সামনে এসেছে, যেখানে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগ বা নিট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ছাড়াই সরাসরি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই সমন্বিত কর্মসূচির মেয়াদ ৭.৫ বছর এবং পাঠদান সম্পূর্ণভাবে সংস্কৃত মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা স্বীকৃত বিএএমএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় দশম শ্রেণির পর আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্যে এই বিশেষ ইন্টিগ্রেটেড প্রোগ্রামটি চালু করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে কম বয়সেই চিকিৎসা শিক্ষার সূচনা করতে পারেন। এই কর্মসূচিতে আয়ুর্বেদের শাস্ত্রীয় ভিত্তি, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট বিষয়সমূহ সংস্কৃত ভাষার মাধ্যমে শেখানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রোগ্রামে নিট বা দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয় বাধ্যতামূলক নয়। উদ্দেশ্য হল আয়ুর্বেদের মৌলিক জ্ঞান সংরক্ষণ করে প্রশিক্ষিত ও পেশাদার বিএএমএস চিকিৎসক তৈরি করা।
এই ইন্টিগ্রেটেড প্রোগ্রামে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পরই ভর্তি হওয়া যায়। দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগ বা নিট পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা না থাকায়, কম বয়সে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাঠদানের মাধ্যম হিসেবে সংস্কৃত ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আয়ুর্বেদের মূল গ্রন্থ ও শাস্ত্র সরাসরি অধ্যয়নের সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, আয়ুর্বেদের প্রকৃত ও গভীর উপলব্ধি তার মূল ভাষার মাধ্যমেই সম্ভব, এবং এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই কর্মসূচিটি গড়ে তোলা হয়েছে।
৭.৫ বছর মেয়াদি এই কোর্সের প্রাথমিক পর্যায়ে সংস্কৃত শিক্ষা, আয়ুর্বেদের মৌলিক ধারণা এবং শাস্ত্রীয় জ্ঞান প্রদান করা হয়। পরবর্তী ধাপে পেশাদার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা শুরু হয়, যেখানে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কোর্সের শেষ পর্যায়ে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। সম্পূর্ণ কোর্স সফলভাবে শেষ করলে শিক্ষার্থীরা স্বীকৃত বিএএমএস ডিগ্রি লাভ করেন, যা তাদের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক হিসেবে প্র্যাকটিস করার যোগ্যতা প্রদান করে।
এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন সেই সব শিক্ষার্থী, যারা সংস্কৃত মাধ্যমে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ এবং সংস্কৃত ভাষায় দক্ষতা রয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য প্রবেশ পরীক্ষা এবং অন্যান্য শর্তাবলি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা ভাবে নির্ধারণ করবে, যার বিস্তারিত তথ্য অফিসিয়াল নোটিফিকেশনে প্রকাশ করা হবে।
ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন পেশাগত সুযোগ উন্মুক্ত থাকে। তারা নিজস্ব আয়ুর্বেদিক ক্লিনিক স্থাপন করতে পারেন, সরকারি বা বেসরকারি আয়ুর্বেদিক হাসপাতালে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, অথবা গবেষণা ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে অগ্রসর হতে পারেন। ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার এই সমন্বয় তাদের একটি স্বতন্ত্র পেশাগত পরিচয় গড়ে তুলতে সহায়তা করে।








