আকাশের বিরল মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে চন্দ্রগ্রহণ অন্যতম আকর্ষণীয়। প্রতি বছরই এই ঘটনা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। ২০২৬ সালেও রয়েছে দুইটি চন্দ্রগ্রহণ। বছরের প্রথম গ্রহণের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ—কবে ঘটবে, কোথা থেকে দেখা যাবে এবং ভারত থেকে তা দৃশ্যমান হবে কি না, তা নিয়েই চলছে নানা প্রশ্ন।
২৮ অগস্ট ঘটবে বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৮ অগস্ট। বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণের পর এটিই হবে দ্বিতীয় এবং শেষ চন্দ্রগ্রহণ। এই মহাজাগতিক ঘটনা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জ্যোতিষবিদদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা গেছে।
কোথা থেকে দেখা যাবে এই গ্রহণ
জ্যোতিষবিদদের মতে, এই চন্দ্রগ্রহণটি মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার আকাশে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। এছাড়া মধ্য প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে এটি উদিত হবে এবং আফ্রিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে অস্ত যেতে দেখা যাবে। তবে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না।
ভারত থেকে দৃশ্যমান নয়, তাই সুতককালও নেই
ভারত থেকে গ্রহণ দৃশ্যমান না হওয়ায় এর কোনও সুতককাল প্রযোজ্য হবে না। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, যে গ্রহণ স্থানীয়ভাবে দেখা যায় না, তার সুতককালও ধরা হয় না। ফলে ২৮ অগস্টের এই চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতবাসীর জন্য বিশেষ কোনও বিধিনিষেধ নেই।
একই দিনে শ্রাবণ পূর্ণিমা
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২৮ অগস্টেই পড়ছে শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা। পঞ্জিকা অনুযায়ী, শ্রাবণ পূর্ণিমার তিথি শুরু হবে ২৭ অগস্ট সকাল ৯টা ০৯ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৮ অগস্ট সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে। এই পূর্ণিমা হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
পূর্ণিমার স্নান ও দানের গুরুত্ব
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পূর্ণিমার দিনে ভোরে স্নান করে দান-পুণ্য করলে বিশেষ পুণ্য লাভ হয়। অনেকেই এই দিনে বিভিন্ন দেবতার পুজো, ব্রাহ্মণ ভোজন বা দরিদ্রদের মধ্যে দান করেন। যদিও গ্রহণের সময় বিশেষ বিধি মানা হয়, কিন্তু এবার যেহেতু গ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান নয়, তাই সাধারণ পূর্ণিমার নিয়মেই ধর্মীয় আচার পালন করা যাবে।
২০২৬ সালে মোট দুইটি চন্দ্রগ্রহণের মধ্যে দ্বিতীয়টি ঘটবে ২৮ অগস্ট। তবে এই গ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না বলে জানিয়েছেন জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞরা। একই দিনে পড়ছে শ্রাবণ পূর্ণিমা। ফলে গ্রহণ দৃশ্যমান না হওয়ায় সুতককালও প্রযোজ্য হবে না। তবে পূর্ণিমার স্নান ও দানের বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।













