কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬: পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলনে ঋষিকান্ত সিংয়ের রৌপ্য পদক

কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলনে ভারতের ঋষিকান্ত সিং মোট ২৬৪ কেজি ওজন তুলে রৌপ্য পদক জিতেছেন। এই সাফল্যের পর ভারতের ঝুলিতে একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জসহ মোট দুইটি পদক রয়েছে এবং দেশটি পদক তালিকায় ১০ম স্থানে অবস্থান করছে।

ভারতের ভারোত্তোলক ঋষিকান্ত সিং কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে মোট ২৬৪ কেজি ওজন তুলে রৌপ্য পদক জিতেছেন। এই পদকের মাধ্যমে ভারত প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় পদক অর্জন করেছে।

এই সাফল্যের পর ভারতের ঝুলিতে এখন একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে। এর আগে পুরুষদের প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ঝান্ডু কুমার ব্রোঞ্জ পদক জিতে ভারতের পদক অভিযান শুরু করেছিলেন। প্রাথমিক প্রতিযোগিতা শেষে ভারত পদক তালিকায় ১০ম স্থানে রয়েছে, আর অস্ট্রেলিয়া ১২টি স্বর্ণসহ মোট ২৩টি পদক নিয়ে শীর্ষে রয়েছে।

পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলনের ফলাফল

ঋষিকান্ত সিং স্ন্যাচ বিভাগে সফলভাবে ১২১ কেজি ওজন তোলেন। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৪৩ কেজি ওজন তুলে মোট ২৬৪ কেজি সংগ্রহ করে রৌপ্য পদক নিশ্চিত করেন।

মালয়েশিয়ার অনিক কাসদান মোট ২৬৬ কেজি ওজন তুলে স্বর্ণপদক জেতেন। কেনিয়ার ম্বোয়া ২৬০ কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। স্বর্ণ ও রৌপ্যজয়ীর মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র দুই কেজি।

কমনওয়েলথ গেমসে দ্বিতীয় অংশগ্রহণ

এটি ঋষিকান্ত সিংয়ের দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমস। এর আগে তিনি বার্মিংহাম ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে ৫৫ কেজি বিভাগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, তবে সেবার পদক জিততে পারেননি। এবার ৬০ কেজি বিভাগে অংশ নিয়ে তিনি রৌপ্য পদক জিতেছেন।

ঋষিকান্ত বর্তমানে কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যাম্পিয়নও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তিনি ভারতীয় ভারোত্তোলন দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

মণিপুর থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে

ঋষিকান্ত সিং ২০০৯ সালে মণিপুর স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে ভারোত্তোলনের প্রশিক্ষণ শুরু করেন। পরে তিনি স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (SAI)-এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নির্বাচিত হন। এরপর ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন এবং পরবর্তীতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্রীড়া ব্যবস্থার অংশ হন।

তিনি মণিপুরের ইম্ফল পশ্চিম জেলার বাসিন্দা।

ভারোত্তোলনে বিজয়ী কীভাবে নির্ধারিত হয়

ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতা দুটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়—স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক। উভয় বিভাগেই প্রতিযোগীরা তিনটি করে প্রচেষ্টার সুযোগ পান।

স্ন্যাচে প্রতিযোগী একটানা একটি গতিতে বারবেল মাটি থেকে মাথার ওপর পর্যন্ত তোলেন।

ক্লিন অ্যান্ড জার্কে প্রথমে বারবেল মাটি থেকে কাঁধ পর্যন্ত তোলা হয়, যাকে ক্লিন বলা হয়। এরপর সেটিকে মাথার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে তোলা হয়, যাকে জার্ক বলা হয়।

দুই বিভাগের সর্বোচ্চ সফল ওজন যোগ করে মোট স্কোর নির্ধারণ করা হয়। সর্বাধিক মোট ওজন তোলা প্রতিযোগীকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

ভারতের পরবর্তী আশা

ঋষিকান্ত সিংয়ের রৌপ্য পদকের পর ভারতের নজর এখন মহিলাদের ৪৯ কেজি বিভাগের ফাইনালে মীরাবাই চানুর দিকে। পাশাপাশি পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে এম. রাজাও ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

অন্যান্য খেলাতেও ভারতের অভিযান

ভারোত্তোলনের পাশাপাশি অন্যান্য খেলাতেও ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা অংশ নিচ্ছেন। মহিলাদের পেয়ার্স লন বোলসে ভারতীয় জুটি নামিবিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে পরাজিত হয়েছে। সেমিফাইনালে উঠতে হলে এখন ইংল্যান্ডকে হারানো প্রয়োজন।

জিমন্যাস্টিকসে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা পুরুষ ও মহিলা অল-অ্যারাউন্ড ফাইনালে অংশ নেবেন। এছাড়া অন্যান্য ইভেন্টেও ভারতের একাধিক প্রতিযোগী পদকের লড়াইয়ে রয়েছেন।

Leave a comment