ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে কখনও কখনও বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন গ্রাহকরা। সেই সময় ব্যাংকগুলি প্রায়ই বিলকে EMI-তে রূপান্তরের বিকল্প দেয়। শুনতে সুবিধাজনক মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকে অতিরিক্ত খরচ ও সুদের চাপ, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের মোট ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
কেন ব্যাংক EMI অপশন দেয়
ক্রেডিট কার্ডের বিল EMI-তে রূপান্তর করলে মূলত সেটি একটি স্বল্পমেয়াদী ঋণে পরিণত হয়।
এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংক সুদ এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রসেসিং ফি যোগ করে। ফলে মাসিক কিস্তি ছোট মনে হলেও শেষ পর্যন্ত মোট পরিশোধের অঙ্ক মূল বিলের তুলনায় বেশি হয়ে যায়।
সুদের হার কতটা বেশি হতে পারে
অনেক ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বার্ষিক ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তাই বিল পরিশোধ না করে দীর্ঘ সময় ধরে EMI চালালে ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়তে পারে।
কখন EMI সত্যিই উপকারী
কিছু পরিস্থিতিতে EMI অপশন সত্যিই কাজে আসতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ—
বড় চিকিৎসা ব্যয়
জরুরি ভ্রমণ
হঠাৎ বড় খরচ
এই ধরনের ক্ষেত্রে পুরো টাকা একবারে পরিশোধ করা সম্ভব না হলে EMI সাময়িক আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করতে পারে।
লিমিট ব্লক হওয়ার সমস্যা
যখন কোনও বড় অঙ্কের বিল EMI-তে রূপান্তর করা হয়, তখন সেই টাকার পরিমাণ ক্রেডিট কার্ডের সীমা থেকে আটকে যায়।
ধরা যাক, একটি কার্ডের লিমিট ১ লক্ষ টাকা এবং ৮০ হাজার টাকার EMI করা হয়েছে। তখন পুরো EMI শোধ না হওয়া পর্যন্ত কার্ডের ব্যবহারযোগ্য সীমা অনেকটাই কমে যাবে।
অতিরিক্ত খরচের ফাঁদ
ধরা যাক ৯০ হাজার টাকার একটি কেনাকাটা করা হয়েছে।
সুদ এবং ফি যোগ হয়ে শেষ পর্যন্ত সেই খরচ ৯৮ হাজার টাকা বা তারও বেশি হয়ে যেতে পারে।
কখন EMI করা উচিত নয়
যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে EMI-তে রূপান্তর করা অপ্রয়োজনীয় সুদের বোঝা বাড়াতে পারে।
অনেকেই উৎসবের কেনাকাটা বা ভ্রমণের পরে শুধু মানসিক স্বস্তির জন্য EMI বেছে নেন, যা সবসময় আর্থিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
বড় অঙ্কের ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধ করতে অনেকেই EMI অপশন বেছে নেন। এতে মাসিক কিস্তি কম মনে হলেও অতিরিক্ত সুদ ও প্রসেসিং ফি যোগ হয়ে মোট খরচ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ক্রেডিট কার্ড বিলকে EMI-তে রূপান্তর করা সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়।









