ফ্লাইওভারে গাড়ি হঠাৎ দুলছে? প্রবল হাওয়া-বৃষ্টিতে এই ভুলেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা, জানুন নিরাপদে গাড়ি চালানোর নিয়ম

প্রবল হাওয়া ও বৃষ্টিতে ফ্লাইওভার বা সেতুর উপর গাড়ি একদিকে সরে যায় কেন? Crosswind-এর প্রভাব, কোন গাড়িতে ঝুঁকি বেশি এবং নিরাপদে গাড়ি চালানোর জরুরি টিপস জেনে নিন।

বর্ষার দিনে আকাশ কালো করে ঝড়-বৃষ্টি নামল। তার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন। কিন্তু ফ্লাইওভার বা দীর্ঘ সেতুর উপর উঠতেই হঠাৎ মনে হল, গাড়ি যেন নিজের লেন থেকে একদিকে সরে যাচ্ছে! কখনও আবার প্রবল হাওয়ার ধাক্কায় গাড়ির শরীর দুলতে শুরু করছে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হওয়া স্বাভাবিক। তবে এর পিছনে অনেক সময় সেতুর কোনও সমস্যা নয়, বরং দায়ী থাকে Crosswind, অর্থাৎ পাশ থেকে সরাসরি গাড়ির উপর আছড়ে পড়া প্রবল বাতাস।

কেন ফ্লাইওভারে Crosswind-এর প্রভাব বেশি?

সাধারণ রাস্তার তুলনায় উঁচু সেতু ও ফ্লাইওভার অনেক বেশি খোলা জায়গায় তৈরি হয়। চারপাশে বড় গাছ, বাড়ি বা অন্য কোনও স্থাপনা না থাকায় বাতাস বাধাহীনভাবে গাড়ির গায়ে ধাক্কা দিতে পারে।বিশেষ করে সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি চলার সময় পাশ থেকে প্রবল হাওয়া এলে গাড়ির উপর পার্শ্বীয় চাপ তৈরি হয়। এর ফলে গাড়ি নিজের গতিপথ থেকে সামান্য সরে যেতে পারে বা চালকের কাছে দুলছে বলে মনে হতে পারে।

কোন গাড়িতে ঝুঁকি বেশি?

সব গাড়ি সমানভাবে Crosswind-এর প্রভাব অনুভব করে না। তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকে—

SUV

ভ্যান

বাস

বেশি উচ্চতার গাড়ি

কম মালবোঝাই ট্রাক

এই ধরনের গাড়ির গায়ে বাতাস লাগার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় প্রবল পাশের বাতাসে এগুলি তুলনামূলকভাবে বেশি দুলতে পারে। তাই ঝোড়ো হাওয়ার সময় বড় ও উঁচু গাড়ির চালকদের আরও সতর্ক থাকা জরুরি।

বৃষ্টির সঙ্গে বাতাস থাকলে বিপদ বাড়ে

শুধু Crosswind নয়, একইসঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে রাস্তা ভিজে গেলে টায়ারের গ্রিপ কমে যেতে পারে। তার উপর পাশ থেকে জোরালো বাতাসের ধাক্কা এলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হতে পারে।তাই এমন পরিস্থিতিতে সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। হঠাৎ ব্রেক করা, দ্রুত লেন বদলানো কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকুন।

হঠাৎ গাড়ি একদিকে সরে গেলে কী করবেন?

প্রবল দমকা হাওয়ায় গাড়ি হঠাৎ একদিকে সরে গেলে প্রথমেই শান্ত থাকুন। আতঙ্কিত হয়ে আচমকা স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

নিরাপদে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে—

১. অ্যাক্সিলারেটর থেকে ধীরে ধীরে পা সরিয়ে গতি কমান।

২. দুই হাতে স্টিয়ারিং শক্তভাবে ধরে রাখুন।

৩. নিজের লেন ধরে রাখার চেষ্টা করুন।

৪. হঠাৎ করে স্টিয়ারিং ঘোরাবেন না।

৫. সামনে থাকা গাড়ির থেকে বেশি দূরত্ব বজায় রাখুন।

৬. প্রয়োজন ছাড়া লেন পরিবর্তন করবেন না।

৭. ঝোড়ো হাওয়ার সময় ওভারটেকিং এড়িয়ে চলুন।

গাড়ি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত কোনও আকস্মিক সিদ্ধান্ত না নেওয়াই নিরাপদ।

ফ্লাইওভারে ওঠার আগে এই সতর্কতা নিন

প্রবল হাওয়া-বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে ফ্লাইওভার বা দীর্ঘ সেতুতে ওঠার আগেই গাড়ির গতি কমিয়ে নিন। গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখলে কম দৃশ্যমানতার সময় অন্য চালকরাও আপনার গাড়িকে সহজে দেখতে পাবেন।সেতুর উপর ওঠার পর সামনের গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ হলে অপ্রয়োজনীয় ওভারটেকিং এড়িয়ে চলুন এবং হঠাৎ দমকা বাতাসের জন্য পুরো সেতু পার হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকুন।

 বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে উঁচু সেতু বা ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে গাড়ি চালানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে Crosswind বা আড়াআড়ি দমকা বাতাসের ধাক্কায় গাড়ি একদিকে সরে যেতে কিংবা দুলতে শুরু করে। কোন গাড়িতে এই ঝুঁকি বেশি এবং এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করবেন, রইল জরুরি পরামর্শ।

Leave a comment