Birth-Death Certificate: জন্ম-মৃত্যুর নথি নিয়ে পুলিশের অভিযান! ১৯৯০ সাল থেকে রেজিস্টার জব্দ, পরিষেবা নিয়ে বড় স্বস্তির খবর

কাটোয়া পুরসভা ও কালনার একাধিক পঞ্চায়েতে জন্ম-মৃত্যুর পুরনো রেজিস্টার সংগ্রহ করছে পুলিশ। ১৯৯০ সাল থেকে নথি যাচাইয়ের কারণ কী এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা কি বন্ধ হবে? জানুন বিস্তারিত।

জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র নিয়ে বড়সড় প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু পূর্ব বর্ধমানে। কাটোয়া পুরসভা থেকে শুরু করে কালনা বিধানসভার একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছে পুরনো রেজিস্টার ও নথিপত্র সংগ্রহ করছে পুলিশ। জন্ম শংসাপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় কোথাও কোনও অনিয়ম বা ভুয়ো নথি ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তদন্ত বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। ফলে আচমকা সরকারি দফতর থেকে নথি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ালেও সাধারণ মানুষের জন্য রয়েছে স্বস্তির খবর।

কেন পুরনো নথি সংগ্রহ করছে পুলিশ?

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধীকরণের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত অফিসে সংরক্ষিত পুরনো রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কাটোয়া পুরসভা থেকেও ১৯৯০ সাল থেকে সংরক্ষিত বিভিন্ন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্টার সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য, নথিগুলি পরীক্ষা করে জন্ম শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনও অসঙ্গতি বা অনিয়ম রয়েছে কি না, সেটিই মূলত যাচাই করা হবে।

কাটোয়া পুরসভায় কী পরিস্থিতি?

কাটোয়া পুরসভার আধিকারিক চঞ্চল কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ মেনেই পুলিশ নথি পরীক্ষা করছে। তদন্তে পুরসভার কর্মীরাও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন।তবে নথি সংগ্রহ ও হস্তান্তরের কাজে কর্মীদের ব্যস্ততার কারণে কিছু পরিষেবায় এক-দু'দিন সাময়িক অসুবিধা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফলে জন্ম শংসাপত্রের কাজ করাতে এসে কিছু মানুষকে অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর

নথি জব্দ করা হলেও জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের অনলাইন পরিষেবা বন্ধ হচ্ছে না। অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা এবং শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে বলে পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে।অর্থাৎ, পুরনো কাগজপত্র পুলিশ তদন্তের জন্য নিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। প্রশাসনের আশ্বাস, তদন্তের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলে সংগ্রহ করা নথি ফেরত দেওয়া হবে এবং পরিষেবাও আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

কালনাতেও একাধিক পঞ্চায়েতে অভিযান

কাটোয়ার পাশাপাশি কালনা বিধানসভার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতেও একই ধরনের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কালনা থানার পুলিশ কালনা-১ ব্লকের হাটকালনা-সহ একাধিক পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্টার সংগ্রহ করেছে বলে জানা গিয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেই একই ধরনের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট দফতরে সংরক্ষিত পুরনো রেজিস্টার ও নথি তদন্তের প্রয়োজনে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

SIR ও OBC শংসাপত্র নিয়ে কেন প্রশ্ন?

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসার পরেই এই ধরনের বিস্তৃত যাচাই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে SIR প্রক্রিয়া এবং OBC শংসাপত্র তৈরির ক্ষেত্রে জন্ম শংসাপত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসায় নথিগুলির সত্যতা ও প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তবে এখনও পর্যন্ত তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। কোনও নির্দিষ্ট পুরসভা বা পঞ্চায়েতে অনিয়ম হয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযানকে কোনও নির্দিষ্ট অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

পরিষেবা নিয়ে কী জানাল প্রশাসন?

নথি সংগ্রহের জেরে কোথাও কোথাও সাময়িক সমস্যা হলেও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। অনলাইন পরিষেবা চালু থাকায় প্রয়োজনীয় জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের আবেদন এবং প্রদান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।ফলে পুরনো রেজিস্টার নিয়ে পুলিশের তদন্ত চললেও নাগরিক পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তদন্ত শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ও কালনা মহকুমার একাধিক পুরসভা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের পুরনো নথি যাচাই করতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে সংরক্ষিত বিভিন্ন রেজিস্টার ও নথি তদন্তের জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয়, অনলাইন পরিষেবা চালু থাকছে।

Leave a comment