ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’ দুর্বল হতেই বেড়েছে শীত, দক্ষিণবঙ্গে টানা তাপমাত্রা পতন

ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’ দুর্বল হতেই বেড়েছে শীত, দক্ষিণবঙ্গে টানা তাপমাত্রা পতন

কোথায়: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পারদ ১৪–১৭ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। কখন: আগামী ২–৩ দিনে তাপমাত্রা আরও নামবে বলে পূর্বাভাস। কে: ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। কেন: ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে দুর্বল হয়ে পড়ায় শুষ্ক উত্তরের হাওয়া প্রবেশ করছে, যা রাজ্যে শীত বাড়ানোর প্রধান কারণ।

দক্ষিণবঙ্গে জাঁকিয়ে ঠাণ্ডার শুরু

দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় রাতের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকের নিচে নেমে গেছে। কলকাতায় বুধবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৭ ডিগ্রি, আর গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ১৪ ডিগ্রির কাছাকাছি।হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিনে দক্ষিণবঙ্গে পারদ আরও ২–৪ ডিগ্রি কমতে পারে। ফলে শীত অনুভূতি আরও তীব্র হবে।

পশ্চিমাঞ্চলে পারদ ১২ ডিগ্রির ঘরে

পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় ইতিমধ্যেই পারদ ১২ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার কারণে যান চলাচলে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী কয়েক দিন এই শীতল আবহাওয়া একইভাবে বজায় থাকবে।

উত্তরবঙ্গে শুষ্ক হাওয়া, কুয়াশার আভাস

উত্তরবঙ্গে এখনই বড় কোনও তাপমাত্রা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। দার্জিলিং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে।ভোরবেলা হালকা কুয়াশা দেখা দিতে পারে, তবে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে আপাতত উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া স্থিতিশীলই থাকবে।

কলকাতায় মেঘলা আকাশের মধ্যেও তাপমাত্রা পতন

কলকাতায় মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি, কিন্তু রাতের পারদ দ্রুত নেমে বুধবার সকালে দাঁড়ায় ১৭.৭ ডিগ্রিতে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় উত্তর-পশ্চিমের ঠাণ্ডা হাওয়া সহজেই ঢুকছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির কাছাকাছি যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’ দুর্বল হয়ে সরে যেতেই বাংলায় শীতের দাপট বাড়তে শুরু করেছে। দক্ষিণবঙ্গে পারদ ২–৪ ডিগ্রি কমার সম্ভাবনা রয়েছে, আর পশ্চিমাঞ্চলের বহু জেলায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ১২ ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে গেছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস—আগামী ক’দিনে ঠাণ্ডা আরও জাঁকিয়ে বসবে।

Leave a comment