দালাই লামার জন্মদিনের বার্তায় ভারতের অগ্রগতি ও বৈশ্বিক ভূমিকার উল্লেখ

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিনে দালাই লামা শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারতের অগ্রগতি, ধর্মীয় বহুত্ববাদ, গণতান্ত্রিক পরিচয়, সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক ভূমিকার উল্লেখ করেন এবং তিব্বতি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দালাই লামার জন্মদিনের বার্তায় ভারতের অগ্রগতি ও বৈশ্বিক ভূমিকার উল্লেখ
Photo Credit / Attribution: Google

তিব্বতি আধ্যাত্মিক গুরু দালাই লামা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ একটি চিঠি পাঠিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। বার্তায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি ভারতের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও বৈশ্বিক ভূমিকার উল্লেখ করেন।

দালাই লামা বলেন, ভারতের সাফল্যের প্রভাব শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর অবদান গোটা বিশ্বের উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি ভারতের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শুভেচ্ছা জানান।

দালাই লামার কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেকে ভারতের দীর্ঘদিনের অতিথি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতে দীর্ঘ সময় অবস্থানের সময় তিনি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দেশে ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস ও শক্তির জন্য অভিনন্দন জানান।

চিঠিতে দালাই লামা ভারতের ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও গণতান্ত্রিক পরিচয়ের উল্লেখ করেন। তিনি ভারতকে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ এবং বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় বহুত্ববাদের কথা বলেন।

তাঁর মতে, ভারত বিশ্বের সামনে সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার উদাহরণ তুলে ধরে। বিভিন্ন ধর্ম, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সহাবস্থানকে তিনি ভারতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

দালাই লামার বার্তায় ভারত ও তিব্বতি সম্প্রদায়ের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, ভারত তিব্বতিদের কাছে শুধু আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের উৎস নয়, ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের ভৌত আবাসস্থলও।

তিনি ভারত সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি তিব্বতি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভারতে তাঁর দীর্ঘ অবস্থান, ধর্মশালায় তাঁর বাসস্থান এবং তিব্বতি সম্প্রদায়ের নির্বাসিত প্রতিষ্ঠানগুলির উপস্থিতি ভারত ও তিব্বতি সমাজের সম্পর্ককে একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দিয়েছে।

দালাই লামা বলেন, তিব্বত থেকে নির্বাসনের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তী বছরগুলিতে ধর্মশালা তিব্বতি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তিনি ভারতে পাওয়া আতিথ্য ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দালাই লামার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্য যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও দালাই লামার জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

৬ জুলাই ২০২৬ দালাই লামার ৯১তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তাকে বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অবদান এবং বৈশ্বিক কল্যাণের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতিরও প্রশংসা করেন।

এর আগে জুন ২০২৪-এ দালাই লামা লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও এনডিএ-র জয়ের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ভারতের অহিংসা ও করুণার ঐতিহ্যের কথাও বলেন।

২০২৫ সালের জন্মদিনের বার্তাতেও ভারতের সঙ্গে দালাই লামার দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি ভারতকে নিজের কাছে আধ্যাত্মিক ও ভৌত—উভয় অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তিব্বতি সম্প্রদায়ের জন্য ভারতের দেওয়া পরিস্থিতি ও আতিথ্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

১৯৫৯ সালের পর থেকে ভারত তিব্বতি শরণার্থীদের জন্য একটি প্রধান আশ্রয়স্থল হিসেবে রয়েছে। দালাই লামার নেতৃত্বে নির্বাসিত তিব্বতি সম্প্রদায় ভারতে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। ধর্মশালা এই কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

দালাই লামা তাঁর চিঠিতে এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের উল্লেখ করেন এবং ভারতীয়দের আতিথ্যের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি তিব্বতি জনগণের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

দালাই লামা প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। চিঠির শেষে তিনি তাঁর প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা জানান।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রধানমন্ত্রী মোদির ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে পাঠানো এই বার্তায় ব্যক্তিগত শুভেচ্ছার পাশাপাশি ভারতের উন্নয়ন, ধর্মীয় বহুত্ববাদ, গণতান্ত্রিক পরিচয়, সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক ভূমিকার উল্লেখ ছিল। দালাই লামা ভারতের সাফল্যকে বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি তিব্বতি সম্প্রদায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Leave a comment