বর্ষার জলে দামোদর যেন ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে! পূর্ব বর্ধমানের গৈতানপুর চরমানা এলাকায় নদীভাঙন ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। নদীর পাড় রক্ষায় যে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, প্রবল স্রোত ও বৃষ্টির ধাক্কায় তাও আর কার্যকর থাকছে না। ফলে কখন যে নদী গ্রাস করবে বসতবাড়ি কিংবা চাষের জমি, সেই আশঙ্কাতেই রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।
বালির বস্তার প্রতিরোধ টিকল না
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ দিন আগে নদীর পাড় ভাঙন ঠেকাতে বালিভর্তি বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টি এবং দামোদরের স্রোত সেই ব্যবস্থাকে কার্যত দুর্বল করে দিয়েছে। বর্তমানে নদীর পাড়ের মাটি দ্রুত ধসে পড়ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
‘আর ১০-১৫ দিন’, ভয়াবহ আশঙ্কা গ্রামবাসীদের
ভাঙনের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতির দ্রুত মোকাবিলা করা না হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে গ্রামের মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হতে পারে। শুধু বালির বস্তা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন তাঁরা।স্থানীয়দের দাবি, পাথর দিয়ে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ এবং আরও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে বর্ষার বাকি সময়ে ভাঙনের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
নিম্নমানের কাজের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
নদীভাঙন রোধে আগে যে অস্থায়ী কাজ হয়েছিল, তার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, কাজে কোনও গাফিলতি বা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।কোনও ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কৃষিজমি ও বসতবাড়ি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
দামোদরের ভাঙনে শুধু নদীপাড়ের মাটিই নয়, বিপদের মুখে পড়েছে এলাকার কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং মানুষের জীবন-জীবিকা। বর্ষার সময়ে নদীর জল ও স্রোত আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থায়ী বাঁধের দাবিতে সরব এলাকাবাসী
এলাকাবাসীর বক্তব্য, অস্থায়ীভাবে বালির বস্তা ফেলে নদীভাঙন ঠেকানো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। দামোদরের এই অংশে নদীর গতিপ্রকৃতি ও ভাঙনের ধরন বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।দ্রুত পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসন এবং সেচ দফতরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের গৈতানপুর চরমানা এলাকায় দামোদর নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। নদীর পাড় রক্ষায় বালির বস্তা দিয়ে তৈরি অস্থায়ী প্রতিরোধ টানা বৃষ্টি ও প্রবল স্রোতে কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা।











