রাজ্যের নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই আবারও ‘হটসিট’ হিসেবে উঠে এসেছে দার্জিলিং পাহাড়। তবে এবারের ভোটে আগের তুলনায় একাধিক পরিবর্তন চোখে পড়ছে—কমেছে প্রার্থীর সংখ্যা, বদলেছে রাজনৈতিক জোট, আর তাতেই জমে উঠেছে পাহাড়ের রাজনৈতিক অঙ্ক।
প্রার্থী কম, কিন্তু লড়াই আরও তীব্র
গত বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, এবারে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৭-এ। চারজন বিভিন্ন দলের প্রার্থী এবং তিনজন নির্দল হিসেবে ময়দানে নেমেছেন। সংখ্যায় কম হলেও প্রতিযোগিতার তীব্রতা কিন্তু একটুও কমেনি—বরং লড়াই আরও সরাসরি ও স্পষ্ট হয়েছে।
গোর্খাল্যান্ড থেকে উন্নয়ন—ইস্যু একই, কৌশল নতুন
দার্জিলিং পাহাড় মানেই দীর্ঘদিনের দাবি—গোর্খাল্যান্ড, জিটিএ এবং সার্বিক উন্নয়ন। এই ইস্যুগুলি এবারের ভোটেও প্রাসঙ্গিক। তবে এবার প্রার্থী নির্বাচন এবং জোট গঠনের ক্ষেত্রে দলগুলি নতুন কৌশল নিয়েছে, যা ভোটের ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
বিজেপিতে নতুন মুখ, পুরনো সমর্থনের সমীকরণ
গতবারের বিজয়ী নিরাজ জিম্বা-র পরিবর্তে এবার নতুন মুখ নোমান রাই-কে সামনে এনেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাঁকে সমর্থন করছে গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা-এর একটি অংশ। ফলে জোটের অঙ্কে নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের ভরসা আঞ্চলিক শক্তিতে
তৃণমূল কংগ্রেস এবার সরাসরি প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন করছে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা-কে। এই জোটের প্রার্থী বিজয় কুমার রাই। পাহাড়ে আঞ্চলিক শক্তির উপর নির্ভর করেই লড়াইয়ে নামছে শাসকদল।
বাম-কংগ্রেসে সমঝোতা, সিপিএমের ভিন্ন কৌশল
এবার সিপিআই(এম) পাহাড়ে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। পরিবর্তে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এর প্রার্থী মাধব রাই-কে সমর্থন করছে। এই সমঝোতা ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
নতুন দল, নির্দল চমক—অজয় এডওয়ার্ড ফ্যাক্টর
পাহাড়ের পরিচিত মুখ অজয় এডওয়ার্ড নতুন দল গঠন করলেও নমিনেশনে নিজেকে নির্দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দল Indian Gorkha Janshakti Front ইতিমধ্যেই চর্চার কেন্দ্রে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আম জনসেবা পার্টির মিলন ঠোক্কার-সহ একাধিক নতুন মুখও লড়াইয়ে নামায় সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।
দার্জিলিং পাহাড়ে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরিবর্তন—প্রার্থী সংখ্যা কমেছে, বদলেছে জোটের সমীকরণ। নতুন মুখ ও পুরনো ইস্যুর মিশেলে লড়াই আরও অনিশ্চিত ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।








