স্রোতের শব্দে গ্লাসের টুং—ঝর্নার ধারে সুরাপান! রোহিনির এই ক্যাফেই এখন পাহাড়ের নতুন ‘হটস্পট’

রোহিনির রিভারসাইড ক্যাফে এখন পাহাড়ের নতুন হটস্পট। ঝরনার ধারে বসে পানীয়, পাহাড়ি খাবার আর প্রকৃতির শব্দে কাটান নিরিবিলি সময়।

পাহাড় মানেই কি অনেকটা চড়াই-উতরাই আর দুর্গম পথ? সেই ধারণাকে একেবারে ভেঙে দিচ্ছে দার্জিলিং জেলার রোহিনি। শহরের কাছেই, অথচ পাহাড়ি আবহে ঘেরা—ঝর্নার একদম ধারে বসে খাবার ও পানীয় উপভোগ করার সুযোগ এনে দিয়ে পর্যটকদের মন জয় করছে রোহিনি রিভারসাইড ক্যাফে।

শহরের কাছেই পাহাড়ি নিঃশ্বাস

শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে রোহিনির অবস্থান। পাহাড়ে যেতে ইচ্ছে করলেও যারা দীর্ঘ সফর বা ভিড় পছন্দ করেন না, তাঁদের কাছে এই জায়গা যেন আশীর্বাদ। সমতল আর পাহাড়ের মাঝামাঝি অবস্থানে দাঁড়িয়ে এই ক্যাফে শহরের কোলাহল থেকে বেরিয়ে আসার সহজ রাস্তা খুলে দিয়েছে।

ঝর্নার ধারে বসার অভিজ্ঞতাই ইউএসপি

এই ক্যাফের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—ঝর্নার একেবারে ধারে বসার ব্যবস্থা। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ জলের ধারার শব্দ, ভেজা পাথরে জল পড়ার ছন্দ আর পাহাড়ি হাওয়ার মেলবন্ধনে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ। অনেকেই এখানে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেন, কথা কম—প্রকৃতির শব্দ শোনাই যেন আসল আনন্দ।

খাবারের স্বাদে পাহাড়ি ছোঁয়া

শুধু পরিবেশ নয়, খাবারের মানেও নজর কেড়েছে রোহিনি রিভারসাইড ক্যাফে। পাহাড়ি মোমো ও থুকপা এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। পাশাপাশি ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন-সহ নানা ভারতীয় ও চাইনিজ পদও রয়েছে মেনুতে। দাম তুলনামূলকভাবে সাধ্যের মধ্যে থাকায় পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে নির্ভারেই আসা যায়।

বৈধ সুরাপান, বাড়তি আকর্ষণ

এই ক্যাফের আরেকটি বড় প্লাস পয়েন্ট—বৈধভাবে সুরাপানের ব্যবস্থা। ঝর্নার ধারে বসে এক গ্লাস বিয়ার বা পছন্দের পানীয় হাতে পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ খুব সহজে মেলে না। কুয়াশা, প্রবাহমান জল আর ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে স্মরণীয়।

শীতে আরও মোহনীয় রোহিনি

শীতের মরসুমে রোহিনি রিভারসাইড ক্যাফের রূপ যেন আরও বদলে যায়। ঝর্নার উপর ভাসমান কুয়াশা, চারপাশে মেঘের আনাগোনা—সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নিজের হাতে আঁকা একটি পোস্টকার্ড। সেই দৃশ্যের মাঝে বসে গরম চা বা ঠান্ডা পানীয়—সময় যে কখন থেমে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না।

শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে রোহিনির রিভারসাইড ক্যাফে এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। ঝর্নার ধারে বসে পাহাড়ি খাবার, বৈধ সুরাপান আর প্রকৃতির শব্দে হারিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা দিচ্ছে এই ক্যাফে।

Leave a comment